প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি দারুণ বিষয়; নির্মল নারায়ন ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’র অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি’র কারিগরি সহায়তায় ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র বাস্তবায়নে গুইমারা উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের “জাগরণ” নামক পথনাটক প্রদর্শন,নৃত্য,গান পরিবেশন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিল “”অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”।
মঙ্গলবার(১৯ এপ্রিল) গুইমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক নাটক,গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।এ সময় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র চেয়ারপার্সন চামেলী ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেডম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি চাইথোয়াই চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র মনিটরিং ও রিপোর্টিং অফিসার মিহির কান্তি ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন,প্রথাগত বিচার সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ সময় বক্তারা বলেন,এখন খুব সহজে কার্বারী/হেডম্যান/রাজ কার্যালয়ের মৌখিক বা লিখিতভাবে মামলা দায়ের করতে পারেন বিচার প্রার্থীরা। গ্রাম আদালত কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারলে থানা ও কোর্ট আদালতের ওপর চাপ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন।সে জন্যই সরকার গ্রাম আদালতকে যুগােপযােগী, জনবান্ধব ও অধিকতর কার্যকরী করার লক্ষ্যে ‘গ্রাম আদালত আইন-২০০৬’ সংশােধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি ।

গুইমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ন ত্রিপুরা বলেন,গ্রাম আদালত /প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি দারুণ বিষয়।কারণ অনেক মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে আদালতের দ্বারস্থ হন, ফলে সেখানেও চাপ বেড়ে যায়। খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়েও মামলা হচ্ছে।আমরা মনে করি আমরা গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে পারলে আদালতের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এরফলে মানুষই সুবিধা পাবে, তাদের সময়- অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে।
প্রথাগত রীতি নীতি প্রয়োগ করে উপজেলা ও ইউনিয়নের এলাকাগুলো ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সমন্বয় রেখে যারা করছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে জুডিসিয়াল বিচার ব্যবস্থার অনেক চাপ কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ন ত্রিপুরা,বাইল্যাছড়ি মৌজার হেডম্যান ত্রিদ্বীপ নারায়ন ত্রিপুরা,তৈমাতাই মৌজার হেডম্যান বিমল ত্রিপুরা,গুইমারা ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার হরিপদ্ম ত্রিপুরা প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে,বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়)
প্রকল্পের তথ্যমতে,প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় যেখানে প্রথাগত বিচার মিলে যেখানে সেগুলো হলো..১/রাজা/সার্কেল চীফ,হেডম্যান/মৌজাতে,৩/গ্রাম্য বা পাড়া কার্বারী।
প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় যেসব বিষয়ে সমাধান পাওয়া যায়ঃ
১/ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় সংক্রান্ত, ২/যেমন:সামাজিক বিচার, ৩/প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত বিচার, ৪/ভূমি সংক্রান্ত বিচার।

প্রথাগত বিচার প্রক্রিয়াঃ
যেমনঃ১.কার্বারী/হেডম্যান/রাজ কার্যালয়ের মৌখিক বা লিখিতভাবে মামলা দায়ের,২.প্রথাগত বিচারক কর্তৃক প্রচলিত প্রথাগত মামলা অনুসরণ,৩.বিচারকার্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ, ৪.বিচারক কর্তৃক মামলার রায় প্রদান এবং আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর পুনর্মিল, ৫.বিচারক,আবেদনকারী ও প্রতিবাদী কর্তৃক মামলা ও রায় সংক্রান্ত তথ্যের কপি সংরক্ষণ।

যেসব বিরোধের ক্ষেত্রে প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা সমাধান পাওয়া যায় নাঃ
যেমন…১/রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সম্পর্কিত,রাজশক্তির অধীনে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ অথবা গণন্যায্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
২/মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে এমন সংঘটিত দাঙ্গা অথবা গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে এমন দাঙ্গা।
৩/ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধসমূহ(যেমন:খুনঅপরাধমূলক নরহত্যা,ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত)
৪/চাঁদাবাজি,দস্যুতা,ডাকাতি,অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ,অনধিকার গৃহপ্রবেশ,অপথে গৃহপ্রবেশ যখন ৫০টাকার অধিক মূল্যের সম্পত্তি জড়িত।
৫/অবৈধ অবরোধ,ধর্ষণ,অপহরণ এবং অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ।৬/জালিয়াতি। ৭/পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন,১৯০০এর ৪র্থ অধ্যায়ের বর্ণিত অপরাধসমূহ(যেমন:অগ্নেয়াস্ত্র,গোলাবারুদ এবং গান পাউডার,মাদক দ্রব্য,স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত স্পিরিট ও অন্যান্য মাদক সংক্রান্ত), ৮/কমিশনার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া অন্যান্য অপরাধসমূহ।