প্রার্থী যেন নিজেই এক জীবন্ত পোস্টার

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

ভোটের প্রচার-প্রচারণা মানেই পোস্টার ও ব্যানারের ছড়াছড়ি এবং মাইকের কান ফাটা হাঁকডাক। পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে নির্বাচনী অফিস। প্রার্থীর সাথে থাকবে বেশ কিছু কর্মী বাহিনী। এমন না হলে কি জমে ভোটের প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু প্রচলিত এসব আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও যে, ভোটারদের আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা যায় তার প্রমান আদমদীঘি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শ্যামল চন্দ্র শীল। যার নেই কোন পোস্টার, ব্যানার, ভাড়া করা মাইকিং ব্যবস্থা, বিশাল কর্মী বাহিনী এবং নির্বাচনী অফিস। তিনি নিজেই জীবন্ত এক পোস্টার। তার যে প্রতীক সেটিও তার নিজের বানানো। ফুটবল মার্কা প্রতীকটি নিজেই খড় ও কাপড় দিয়ে বানিয়েছেন। বাঁশের বাহুক এর দুই প্রান্তে দু’টি করে খড়-কাপড়ের তৈরি ফুটবল প্রতীক হিসাবে ঝুলিয়ে এবং হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সারা ফেলে দিয়েছে।

নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার আবশ্যিক বিষয়াদি ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সব চেয়ে নিচের পদ হচ্ছে মেম্বার। এই পদের নির্বাচনে ১০/১৫ লাখ টাকা খরচ করাকে আমি অপব্যয় মনে করি। সে কারনে আগামীতে একটি মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা থেকে আমি এই সিস্টেম নিয়ে মাঠে কাজ করছি। এমন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে আপনি নির্বাচিত হতে পারবেন বলে মনে করেন কী ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভোটাররা লোভের উর্দ্ধে থেকে ভোট দিলে নির্বাচিত হব বলে আমি আশাবাদী। নির্বাচিত হলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে শত ভাগ কাজ করার পর যে টাকা অবশিষ্ট থাকে সেটা ফেরত দিব এবং যে সম্মানি ভাতা পাব তা আমার ওয়ার্ডের ছয় মসজিদ ও মন্দিরে দান করব। কারন আমার অভাব এবং লোভ কোনটিই নেই। আমি অবসর ভাতা পাই, মাছের হ্যাচারি এবং ডেইরি ফার্মের ব্যবসা আছে। এর পর আর কি চাই।

তালশন নামক ওই এলাকার বাসিন্দা অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিহির কুমার সরকারসহ এলাকাবাসী বলেন, শ্যামল শীলের মত সরল মনের মানুষ খুজে পাওয়া বিরল। তিনি এলাকার কয়েকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের জন্য খাবার হোটেল খুলেছেন। সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবারের কোন নির্ধারিত দাম নেই। খেয়ে যে যা দেয় তাতেই সন্তষ্টু। পাঁচ টাকা দশ টাকায়ও তিনি বাচ্চাদের মাছের খিচুরি খাওয়ান। এভাবে চলছে প্রায় ৫ বছর।

তিনি নিজের কাজ নিজে করতে গর্ববোধ করেন। তার ডেইরি ফার্মের দুই থেকে আড়াই শ’ লিটার দুধ নিজে কাঁধে করে ঘুরে ঘুরে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেন। অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি’র সার্জন শ্যামল শীল একজন সাংস্কৃতিমনা মানুষ। অভিনয়, গান, আবৃতি সব কিছুতেই পারদর্শী। শুধু তাই নয়, তার মুখে বিভিন্ন পশু-পাখীর ডাক মানুষকে বিমোহিত করে দেয়।