বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এক ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়;কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও বর্ণিল আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালন করা হয়েছে।এ উপলক্ষে জেলাশহরজুড়ে হাজার হাজার নাগরিকের সমাগম,আনন্দ শোভাযাত্রা,বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

সোমবার(৭ই মার্চ) সকাল থেকে দিনব্যাপি বর্ণিল আয়োজনে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন,১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ডাক দেন।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এক ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধুর কাছে কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না, বরং ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনিবার্য জাতীয় স্বাধীনতার দিকে তিনি বাংলার জনগণকে প্রস্ত্তত করেছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্যে যেমন দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতার কথা অন্তভু‌র্ক্ত  তেমনি মানুষের সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের আকাঙ্ক্ষাও ধারণ করেছে ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

অন্যান্য বক্তারা বলেন,বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ই মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন ইতিহাসে তার তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। বাঙালির হাজার বছরের দুঃখ-বেদনা, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার ইতিহাস বিদ্রোহ প্রভৃতির বারুদ ঠাসা উপাদানে তার সচেতন এবং অবচেতন মনে এই ভাষণটি তৈরি হয়ে প্রকাশের জন্য উন্মুখ হয়েছিল।

এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্হিতিতে এই মহান নেতা ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ একাত্তরের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্ত্ততি নিতে শুরু করে।

বক্তারা আরো বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ই মার্চে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীকালে স্বাধীনতাসংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। একইভাবে এ ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষাবিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া,সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী,উপজাতীয় শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা,
জেলা।মহিলা আওয়ামীগের সভানেত্রী ক্রইসাঞো চৌধুরী,জেলা মহিলা আওয়ামী-লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদিকা ও জেলা বৌদ্ধ-ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’র ট্রাস্টি রুপনা চাকমা কণি,মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও জেলা পরিষদের সদস্য শতরুপা চাকমা,মহিলা আওয়ামীগের সভানেত্রী ক্রইসাঞো চৌধুরী, জেলা আওয়ামীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম,সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ ত্রিপুরা(জুয়েল),বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা,দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার দে,জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ নুরুল আজম,সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের।সভাপতি সনজীব ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলার জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা,জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা শাহিনা আক্তার, উপজেলা আওয়ামীগের সহ-সভাপতি সুইচিং থুই চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ এবং মহিলা আওয়ামী লীগ,কৃষক লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।