বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মানচিত্রে সার্বভৌমত্ব দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছে;খাপাজেপ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’র আয়োজনে “স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু পাহাড়ের অকৃত্রিম বন্ধু ও অভিভাবক”শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৩০ডিসেম্বর)বিকাল ৪টার দিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিউটের অডিটোরিয়ামে এ শীর্ষক সেমিনার উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে জেলা সংস্কৃতি,সমবায় ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক নিলোৎপল খীসা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু।

এসময় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক জিতেন চাকমা’র সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ আনন্দ বিকাশ চাকমা।প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুই চৌধুরী বলেন,ইতিহাস কখনো কখনো বাঁক নিতে গিয়ে থেমে যায়। কখনোবা সোজা যেতে যেতে বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারে না। সময়ের খোপে খোপে কেউ কেউ বারুদ জ্বালিয়ে সংগ্রাম শানিয়ে তোলে। সেই সংগ্রাম কখনো কখনো সফল আবার কখনও বিফল হয়। তবে যারা সংগ্রাম শানিয়ে তোলে তারা একেকজন ইতিহাসের সন্তান। আর তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এই বাংলায়ও কালে কালে ইতিহাসের অনেক সন্তান এসেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মত আগে কখনো এই বাংলার ইতিহাসে আসেননি।বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মানচিত্রে সার্বভৌমত্ব দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পরে বক্তারা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে ইতিহাসের দায় যেমন বলা হয়েছে, তেমনি যথার্থই বলা হয়েছে যে, এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসের লম্বা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে এই সমস্যার রং ও ধরন এবং দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে সময়ের সাথে সাথে। ফলে, যা ছিল এক সময় নিতান্তই আইন শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, তা আরেক সময় পরিগণিত হয়েছে অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে।

তারা বলেন,স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই যখন পুরো দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি নির্দয় ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রতি ছিলেন পরম অভিভাবক,যার প্রমাণ মিলে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ২৯ জানুয়ারিতে যখন পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রতিনিধিদল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে। তিনি উক্ত প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আদিবাসীদের (পাহাড়িদের)ঐতিহ্য ও কৃষ্টি পুরোপুরিভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

আরও বলেন,দেশের মূল জনগোষ্ঠীর বিকশিত জীবনের স্রোতে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর বাসিন্দাদের যুক্ত করার আন্তরিকতা থেকেই তিনি ১৯৭০ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বেছে নিয়েছিলেন এ পাহাড়ের পাহাড়ি নেতাদের জাতীয় পরিষদ এবং গণ-পরিষদে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে শরণার্থী পুর্নবাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা,জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বশিরুল হক ভূঞা,খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা,জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উষানু চৌধুরী,খুনৃসাই’র নির্বাহী সদস্য ও সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধিস্বত্ব দেওয়ান,জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী,বিশিষ্ট ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা,সাবেক সহকারী অধ্যাপক মধুমঙ্গল চাকমা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ও জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা প্রমুখ।এছাড়াও আরো বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।