বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের দৈহিক পরিবর্তন ঘটে;ডা.রিপল বাপ্পি চাকমা

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

সিডা’র অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র কারিগরি সহায়তায় এবং ওয়াই-মুভস প্রকল্প, জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র বাস্তবায়নে,যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার(SRHR) এবং শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপ ও নাটক প্রদর্শনী এবং শতাধিক কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারী প্যাড বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার(১৩মার্চ)সকালের দিকে খাগড়াছড়ি সদরস্থ পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে নাটক প্রদর্শনী ও আন্তঃপ্রজন্ম বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় পেরাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা।

অনুষ্ঠানে ওয়াই-মুভস প্রকল্পের সেফগার্ডিং ফোকাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বিনোদন ত্রিপুরা সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্যে ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন,বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের দৈহিক পরিবর্তন ঘটে। ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই শারীরিক কাঠামো মজবুত, দৃঢ় ও বর্ধিঞ্চু হয় বলে এ সময় অধিক পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন হয়।বয়ঃসন্ধিকালের বিশেষ শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় সুস্থ দেহ ও মন বজায় রাখতে খাদ্য নির্বাচনের সময় নজর দেয়া দরকার।

তিনি আরো বলেন,বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ক্রিয়াকর্ম বৃদ্ধি পায়। এ জন্য প্রতিদিনই তাদের সুষম খাদ্য সরবরাহ করা জরুরি। সুষম খাদ্য বলতে তাদের দেহের চাহিদা অনুযায়ী অধিক আমিষ ও শর্করাযুক্ত খাদ্য এবং অন্যান্য খাদ্য উপাদানের যথার্থ উপস্থিতিকেই বোঝানো হয়েছে। এ সময় কিশোরীদের লৌহ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সাধারণভাবে খাদ্যের ৬টি উপাদানই যথা আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানিসমৃদ্ধ খাদ্য দেহের চাহিদামত নির্বাচন করে খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। অন্যথায় পুষ্টির অভাবে দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হবে।যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে বোঝায়, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সু্‌স্থভাবে বেড়ে উঠা, বয়ঃসন্ধিকালের যত্ন, সন্তান জন্মদানের জন্য গর্ভধারণ, পরিবার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি নির্বাচন, স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে জানা, আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এসব আলোচনা করার চর্চা এখনো গড়ে উঠেনি।এর প্রধান বাঁধা এবং কারণ হচ্ছে লজ্জ্বা।

পরে সভাপতির বক্তব্যে তপন বিকাশ ত্রিপুরা বলেন,মেয়েদেরকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে।মেয়েরা শিক্ষিত হলে একটা পরিবার,সমাজ এবং দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।এর জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।মেয়েরা শিক্ষিত হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। তাই দক্ষতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধের পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন,কিশোর কিশোরীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির জন্যই সরকার নানান ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।স্কুল পাঠ্যক্রমে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে ঠিকভাবে শেখানো হয় না। এই কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধির ব্যাপারে যথেষ্ট ধারণাও নেই। শতকরা ১৭ ভাগ কিশোর ও ২৭ ভাগ কিশোরী ঠিকমত কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির নাম বলতে পেরেছে।আদতে তাদের স্কুলের বইতে শুধু একটি অধ্যায়েই কৈশোরকালীন শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তাও কেবল মাসিক ও বয়ঃসন্ধি নিয়ে আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ।

নাট্য পরিচালক,প্রযোজক এবং রচয়িতা লায়স দেওয়ান প্রতিবেদককে বলেন,আমরা ইদানিং দেখি স্কুলে অষ্টম শ্রেণী এবং নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে কু-প্রস্তাব দেয়।যার ফলে তারা বিভিন্নভাবে হেনস্থা হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়।সে কারণে আমি এই “না” নাটকটি নিজেই রচনা করেছি,এটি আজই প্রথমবারের মতো জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র সহযোগিতায় মঞ্চায়িত করলাম।আমরা এই সচেতনতামূলক নাটকটির মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে গিয়ে মঞ্চায়ন করার জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি।আমরা কিশোর-কিশোরীদেরকে এই নাটকটির মাধ্যমে “না”বলে কু-প্রস্তাব প্রতিরোধের উপায়ের মেসেজটি পৌঁছিয়ে দিতে চাই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ অলি আহাদ,চট্টগ্রাম বিভাগের এসএমসি মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন,পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিম্বিসার খীসা প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ,খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর গীতিকা ত্রিপুরা,পেরাছড়া ইউপি সদস্য রাঙ্গাবী চাকমাসহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।