বাংলাদেশে প্রথমবারের মত কৃত্রিম হৃদপিন্ড প্রতিস্থাপন করা হয়

প্রকাশিত: ২:৪০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২২

দেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২ মার্চ) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ৪২ বছর বয়সী এক নারীর দেহে এই কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই নারী দীর্ঘদিন হৃৎপিণ্ডের নানা জটিলতায় (তীব্র হার্ট ফেইলিওর) ভুগছিলেন এবং দেশে-বিদেশে নানা চিকিৎসার পরও তার হৃৎপিণ্ড প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছিল। তবে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (Left Ventricular Assist Device) এল্ভ্যাড প্রতিস্থাপন করার পর রোগী এখন সুস্থ আছেন।সফল অস্ত্রোপচারের পর ইউনাইটেড হাসপাতালে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর কবির জানান, যাদের হার্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে তাদের জন্য এই চিকিৎসা। এ পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি যন্ত্র হার্টের নিচে বসানো হয়। সফল অস্ত্রোপচার হলে এই যন্ত্র হার্টকে পাম্প করতে সহায়তা করে। এ কারণে একে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড বলা যাবে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি চার্জেবল ডিভাইস। হৃদযন্ত্রে বসানো হলে যদি চার্জ শেষ হয় তবে অটো সিগন্যাল পাওয়া যায়। যন্ত্রটি বসানোর ফলে হার্টের লাল রক্তকণিকা সচল হয়। স্বাভাবিক কাজ করে হার্ট। ফলে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালো থাকে।’

এই যন্ত্রটি হার্টের নিচে বসানো হয় তবে যন্ত্রটির দাম এক কোটি টাকা জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে অস্ত্রোপচারের খরচ যোগ হবে। তবে সফল অস্ত্রোপচার হলে রোগী দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তাই এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার সহকর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হার্টমেট-৩ নামের একটি মেকানিক্যাল হার্ট রোগীর হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়ে স্থাপন করেন এবং তার পুরো হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।
আশা করা যাচ্ছে, এর মাধ্যমে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে আসবে এবং হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণগুলোর উন্নতি ঘটবে। ইউনাইটেড হাসপাতাল জানায়, বাংলাদেশে হার্ট সার্জারির প্রথম সারির এই চিকিৎসক দল হাসপাতালের শুরু থেকে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের হার্টের সফল অস্ত্রোপচার করেছেন।
ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাক, কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ, হার্ট ভাল্ভজনিত সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি হার্টের অস্বাভাবিক রিদম বা অ্যারেদমিয়া ইত্যাদি নানান রোগের শেষ পরিণতি হচ্ছে ‘হার্ট ফেইলিওর’। বর্তমানে সারা বিশ্বে দশ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত। আর এশিয়ায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব এক দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে ছয় দশমিক সাত শতাংশ।