বান্দরবানের লামায় রাবার কোম্পানি কর্তৃক ভূমি বেদখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২২

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ নামক কোম্পানি কর্তৃক বহিরাগত বাঙ্গালি ও রোহিঙ্গাদের লেলিয়ে দিয়ে ম্রো-ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জায়গা বেদখলের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলা দীঘিনালায় ও পানছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম(ডিওয়াইএফ) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন(এইচডব্লিউএফ)।
আজ সোমবার (১১ এপ্রিল ২০২২) পৃথক দুইটি স্থানে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

দীঘিনালা উপজেলা শাখার তিন সংগঠনের উদ্যোকে বিকাল ৩ টায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি’র দীঘিনালা উপজেলা সভাপতি অনন্ত চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের উপজেলা সভাপতি জ্ঞান প্রসাদ চাকমা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভূমিদস্যু “লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ” নামক কোম্পানি কর্তৃক লংকম ম্রো কার্বারী পাড়া, রেংয়েন ম্রো কার্বারী, জয়চন্দ্র পাড়ায় পাহাড়িদের বংশপরম্পরায় ভোগদখলীয় ৪০০ একর জুমের জায়গা বেদখলের পাঁয়তারা চলছে। গত ৯ এপ্রিল সকালে কোম্পানির উপ পরিচালক মো. কামাল উদ্দীনের মদদে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ও কক্সবাজার থেকে শতাধিক বাঙালি ও রোহিঙ্গা নিয়ে এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে জোরপূর্বক জায়গা বেদখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ভূমি বেদখলকারী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ভূমিদস্যুদের হুমকির ভয়ে তিন পাড়ায় বসবাসকারী পাহাড়িরা এখন আতঙ্কে দিনযাপন করছে।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিদস্যু বিভিন্ন কোম্পানি পাহাড়িদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। শুধু লামায় নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন কৌশলে পাহাড়িদের জায়গা-জমি কেড়ে নিচ্ছে। কখনো উন্নয়ন, কখনো নিরাপত্তা, কখনো ইকো ট্যুরিজম, কখনো পর্যটন, কখনো সেনা ক্যাম্প সম্প্রসারণের নামে পাহাড়ি জনগণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈ-সা-বি ঘনিয়ে এলেই এই ভূমিদস্যুরা আরো বেশি তৎপর হয়ে ওঠে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা অবিলম্বে ‘লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ’ কোম্পানির উপ পরিচালক মো. কামাল উদ্দীনসহ ভূমি বেদখল চেষ্টার সাথে জড়িত সেটলারদের গ্রেফতার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধের দাবি জানান।

পানছড়ি: অপরদিকে বান্দরবানের লামায় “লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ” নামের কোম্পানি কর্তৃক মো ও ত্রিপুরা গ্রামবাসীদের ৪০০ একর ভূমি বেদখলের প্রতিবাদে ও ভূমি দস্যু কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে খাগড়াছড়ির জেলা পানছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) পানছড়ি উপজেলা শাখা।

আজ সোমবার (১১এপ্রিল ২০২২) বিকাল ৩টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র পানছড়ি উপজেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক সুনীল চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা শাখা সভাপতি সুরমঙ্গল চাকমা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে শাসকমহলের ছত্রছায়ায় প্রতিনিয়ত নামে-বেনামে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে। ফলে পাহাড়িরা নিজ বাস্তুভিটা, জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। আর ভূমি বেদখলের প্রতিবাদ করতে গেলে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

বক্তারা আরো বলেন, বান্দরবানে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করতে তথাকথিত উন্নয়নের নামে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক পর্যটন, হোটেল, রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। চিম্বুক পাহাড়ে সিকদার গ্রুপ ও সেনাকল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক ম্রোদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের পর এবার লামায় ডুলুছড়ি মৌজায় “লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ” কর্তৃক সেখানকার ম্রো ও ত্রিপুরা জাতিসত্তার বংশপরম্পরায় ভোগদখলীয় জুমের জায়গা দখল করা হচ্ছে। আর জায়গা বেদখলে মোটা অংকের অর্থ দেয়ার লোভ দেখিয়ে বহিরাগত বাঙালি ও রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বক্তারা অবিলম্বে ভূমি দস্যু ‘লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ’ কোম্পনির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপুর্বক ম্রো ও ত্রিপুরা গ্রামবাসীদের ভূমি বেদখল বন্ধের দাবি জানান।