বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে;বার্ষিক সভায় জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কর্ম-উদ্যোগ প্রোগ্রাম খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি
(কেএমকেএস)’র আয়োজনে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা(GAC)’র অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন(MJF)’র সহযোগিতায় এ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার(১১মার্চ)দিনব্যাপী খাগড়াপুর জে.বি.সি. রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেএমকেএস’র নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

এ বার্ষিক সাধারণ সভায় কেএমকেএস’র এডভোকেসি অফিসার ও ওইমেন এক্টিভিস্ট ফোরাম’র সদস্য পিংকি বড়ুয়া এবং মনিটরিং অফিসার মানস ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মনিষা তালুকদার। এতে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর গীতিকা ত্রিপুরা।এরপরে কেএমকেএস সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সমিতির নির্বাহী সদস্য ও নারী উদ্যোক্তা শাপলা দেবী ত্রিপুরা।

সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, পারিবারিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনেও সহায়ক হয় ।শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্যগত কারণে অল্প বয়সের মেয়েটি তার নিজের সম্পর্কে সচেতন নয়, সুতরাং পরিবার সম্পর্কে তার ধারণা না থাকাটাও স্বাভাবিক বিষয়।আমরা আমাদের পরিশীলিত মূল্যবোধ নিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমাজের জন্য কত টুকু কাজ করছি, কতটুকু দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিতে পারছি, কতজন অসহায় নারী-শিশুর পাশে দাঁড়াতে পারছি।সে ব্যাপারে কেএমকেএস খুবই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাবে।আপনারা যদি সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন করি,তাহলে এই পাহাড়ের কন্যা শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে৷পাহাড়ের মা ও শিশুর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে৷

তিনি আরো বলেন,বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মেয়েদেরকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে।মেয়েরা শিক্ষিত হলে একটা পরিবার,সমাজ এবং দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।এর জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।মেয়েরা শিক্ষিত হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। তাই সমিতিকে দক্ষতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পাহাড়ের নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধের আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন,বাল্যবিবাহের ফলে বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েশিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশ বা উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে ফেলে বাল্যবিবাহ। আর এ বঞ্চনার ফলে অবশেষে সমাজ ও পরিবার মেয়েশিশুদের ভবিষ্যৎ সৃষ্টিশীল অবদান থেকে বঞ্চিত হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা লেডিস ক্লাবের সভানেত্রী দীপান্বিতা বিশ্বাস,সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন প্রমুখ।

এছাড়াও পেরাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা,কমলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুনীল চাকমা,গুইমারা চেয়ারম্যান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ণ ত্রিপুরা, সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা, কমলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুনীল চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ত্রিনা চাকমা, উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্কের জেলা সমন্বয়ক চিংমেপ্রু মারমা, কাবিদাং’র নির্বাহী পরিচালক ও সনাক সদস্য লালসা চাকমা,সমিতির ফিল্ড অফিসার ডালিয়া ত্রিপুরা,কোষাধ্যক্ষ পলিসি ত্রিপুরা,জেলার WRN সদস্য নমিতা চাকমা,সমিতি’র গুইমারা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হরিপদ্ম ত্রিপুরাসহ সমিতির সদস্যবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত স্থানীয় উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ও উন্নয়নের জন্য নেতৃত্বদানকারী একটি অন্যতম নারী সংগঠন। এটি ১৯৯৩ সালে ১২ই মার্চে স্থানীয়, শিক্ষিত এবং উদ্যমী কয়েকজন নারী সমাজ কর্মীদের নিয়ে পার্বত্য জেলায় নারী অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।এ সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা’র সহযোগিতায় সুবিধা বঞ্চিত পার্বত্যঅঞ্চলের জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রান্তিক জনসাধারণ,বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদেরকে উন্নয়নের মূল ধারায় এনে ক্ষমতায়ন ও প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই এই সমিতি দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় সুবিধা বঞ্চিত পার্বত্য/প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নানান কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে চলেছে।