বিজিতলায় হামরনাই বন্থার উদ্যোগে ‘হামরনাই পাঠাগার’ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়ের ৪নং ওয়ার্ডের বিজিতলা ভূবন কার্বারী পাড়ায় “হামরনাই”
পাঠাগার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।এ পাঠাগারটি “সুরুংমুং,বাকসা ও ফ্রাণ” ৩টি মূলনীতি নিয়ে গঠিত,৩টি মূলনীতির বাংলা অর্থ”শিক্ষা,একতা,শক্তি”

শুক্রবার(১২নভেম্বর)সকাল সাড়ে এ পাঠাগারটি শুভ শুভ উদ্বোধন করেন।এতে প্রতিপাদ্যের কয়েকটি বিষয় ছিল,”আমরা আছি, আমরা থাকবো আগামীরা আসবে, আগামীরা থাকবে। সমাজ পরিবর্তন হবেই, শিক্ষার আলো জ্বলবেই। জয়তু “হামরনাই বন্থা”, জয়তু বরক দফা।অনুষ্ঠানে ‘হামরনাই বন্থা’র সভাপতি দিগন্ত প্রসাদ ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে পাঠাগার উদ্বোধন করেন,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা।স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরন ত্রিপুরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জগন্ময় ত্রিপুরা রনি’র সঞ্চালনায়
প্রধান অতিথি বক্তব্যে জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন,জাতির উন্নয়নে শিক্ষা কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল সম্প্রদায়ের শিক্ষার মান ও সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিতে হবে।আমাদের সকলকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন,আমি সবসময় আপনাদের সাথেই আছি।এই হামরনাই পাঠাগারের পাশে সবসময় থাকবো।সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ’র সাধারণ সম্পাদক অনন্ত ত্রিপুরা,জেলার সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা সাজাই মারমা,বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক তাপস কুমার ত্রিপুরা,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা অমিয় কান্তি রোয়াজা,”হামরনাই বন্থা’র জন্য ভূমিদাতা ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সতীন্দ্র ত্রিপুরা,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান চন্দনা ত্রিপুরা,১নং ওয়ার্ডের মেম্বার জ্ঞান দত্ত,সমাজ সেবক নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন।
এছাড়াও আরো স্থানীয় এলাকার কার্বারী,শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়,”হামরনাই বন্থা”-স্বপ্ন দেখা একঝাঁক তরুণের একটি সামাজিক সংগঠনের নাম, একটি ভালোবাসার নাম। সুরুমুং(শিক্ষা) বাকসা(একতা) ফ্রাণ(শক্তি) এই তিনটি মূলনীতিকে নিয়ে তাদের পথচলা। চেংগী ব্রীজ থেকে শুরু করে সুদূর মাতাই পুখ্রী এলাকার ধনীরাম পাড়া পর্যন্ত তাদের কাজের পরিধি। বৃহত্তর এই বরক অধ্যুষিত অঞ্চলে শিক্ষার মাঝে ঐক্যের সুর তুলে উন্নয়নের পথে পথ চলেছি, চলছি, চলবো নতুনদেরই সাথে নিয়ে। তাদের মতে কথন আছে, ঐ নতুনের কেতন উড়ে। নতুনরাইতো কেতন উড়াবে। তাই নতুনদের মাঝে শিক্ষার ব্যাপকতা, গ্রহণযোগ্যতা প্রসারের লক্ষ্যে এ সংগঠনটি প্রতি বছর এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

আরো জানা যায়,সফলতার গ্রাফচিত্র ঊর্ধ্বগতি। কেননা, এ সামাজিক সংগঠনটি স্বপ্নের বীজ তরুণদের মাঝে প্রেরণকরতে পেরেছে। স্থানীয়রা এখন “হামরনাই বন্থা’কে সমাজ পরিবর্তনের সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্থাপিত “হামরনাই বন্থা লাইব্রেরী’তে এখন জ্ঞানের চর্চা হয়। অদূর ভবিষ্যতে এই চর্চিত জ্ঞান সমাজ পরিবর্তনে এক একটি হমচাং(মশাল) হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।বৃহত্তর এই বরক অধ্যুষিত অঞ্চলে আগামী দুই দশকে প্রতিটি বরক পরিবারে একজন করে হলেও উচ্চ শিক্ষিত লোকবল তৈরিতে আমাদের কাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। সেই লক্ষ্যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, পরামর্শদাতাদের অনুপ্রাণে অনুপ্রাণিত হয়ে হাতে নেওয়া কাজ, চলমান কাজগুলো এক এক করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। লক্ষ্য বহুদূর, তারপরেও স্বপ্ন দেখা। স্বপ্নগুলোকে চিন্তা করার ডোজ হিসেবে মাথার মস্তিষ্কে নেওয়া বহুজনের সংখ্যা দিনের সাথেই ক্রমবর্ধমান।