ঢাকা, ২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বিজয় দিবস উপলক্ষে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা


প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানবিক চিকিৎসক নামে খ্যাত ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা’র জন্মস্থান খাগড়াছড়ি জেলাধীন দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম লম্বাছড়া(তৈসা কলক)এলাকায় ৫টি গ্রামের জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান,ঔষধ বিতরণ,রক্তের গ্রুপ নির্ণয়,খোকন স্মৃতি পাঠাগার উদ্বোধন ও জেলা সেবাদানকারী চিকিৎসকদের অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার(১৬ই ডিসেস্বর) দিনব্যাপি জেলার লম্বাছড়া কাঁশিরাম পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিক’র প্রাঙ্গণে এই সেবার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এতে শিশু অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা’র নিজ প্রতিষ্ঠান Ortho Kids & Trauma Centre, Khagrachhari এর তত্ত্বাবধানে খগেন্দ্রশান্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও খোকন পাঠাগারটি শুভ উদ্বোধন করেন ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা’র গর্ভধারিণী মা শান্তি বালা চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপুল চাকমা’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আধুনিক সদর হাসপাতালের হৃদরোগ,ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বিশেষজ্ঞ ডা. পূর্ণজীবন চাকমা।তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই এলাকায় জন্ম,এই গ্রামের সন্তান ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা’র মত এই এলাকার প্রতি এতো প্রীতি,এতো ভালোবাসা এবং এভাবে প্রোডাকশন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা।আমি উনার এই মহৎ উদ্যোগকে সবসময় স্বাগত জানায় এবং এই এলাকাবাসী উনাকে নিয়ে গর্ব করার সুযোগ তৈরী হয়েছে।

পরে ডা.নয়ন ময় ত্রিপুরা বলেন,খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলায় ছোট মেরুং ইউনিয়নের লম্বাছড়ার সন্তান হিসেবে আমার বাবা ও মা’র স্বরণে এই এলাকায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার স্বপ্ন বরাবরই ছিল কিন্তু সময় না পাওয়ার কারণে সম্ভব হয়ে উঠছিল না। তাই,এইবার একপ্রকার জোড় করে সময় বের করে অনেকের সম্মতিক্রমে ১৬ ডিসেম্বর দিনটি নির্ধারন করেছি। এই কার্যক্রমটি প্রতিবছরই আমার এই গ্রামে চালিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন রয়েছে । এজন্য আমি ভবিষ্যতেও সকলের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।এই চিকিৎসা সেবা দিতে আমার ডাকে যেসকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা সাড়া দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। চিকিৎসা সেবা ছাড়াও উক্ত এলাকায় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার শ্রদ্ধেয় বড় দাদা খোকন ময় ত্রিপুরা’র স্মৃতি রক্ষার্থে খোকন স্মৃতি পাঠাগার নামে স্থাপন করেছি।
তিনি বলেন,এই চিকিৎসা সেবায় জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত। এই বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমটি Ortho Kids & Trauma Centre এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর বিজয় দিবসের দিনে করার চেষ্টা করবো। কার্যক্রমটি সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সকলের সহযোগীতা করেন।

এদিন ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন’শ নারী,পুরুষ, শিশু, গর্ভবর্তী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে পেসক্রিপশনের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের ঔষধ বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপি এই বিনামুল্যে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করা হয়।এতে অংশ গ্রহণ করেছেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ১০জন চিকিৎসক,প্যাথলজি বিভাগ ও অন্যান্যরা। ঔষধের পাশাপাশি মানুষকে সচেতনার জন্য বিনামুল্যে করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিনামুল্যে বিভিন্ন রোগের ঔষধ পাওয়ায় ও বিশেষঞ্চ চিকিৎসক দেখাতে পেরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা যায়।তারা ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা’র সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।

দিনব্যাপি নানান রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে, যেমন-মেডিসিন ও চক্ষু রোগ,হৃদরোগ, ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রোগ,নাক, কান ও গলা রোগ,বাত ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা ও অর্থোপেডিক,গাইনী এন্ড অবঃ (মহিলা) রোগ,শিশু-কিশোর রোগ,দাঁতের রোগ,এলার্জি ও চর্মরোগ,সার্জারি, কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের রোগসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবায় যে সকল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা উপস্থিত ছিলেন -তারা হলেন,
১.অর্থোপেডিক,ট্রমা ও প্লাস্টিক সার্জারী সার্জন ডা. সুবল জ্যোতি চাকমা২.হৃদরোগ,ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপ রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. পূর্ণজীবন চাকমা, ৩.সার্জারী,কিডনি ও মূত্রতন্ত্র রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. টুটুল চাকমা, ৪.মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শিমুল কর ৫.শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.রাজর্ষী চাকমা, ৬.মেডিসিন ও চক্ষু রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ আলাউদ্দিন, ৭.গাইনী রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. বিউটি চাকমা, ৮.দন্ত রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. নিউটন চাকমা, ৯.মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব চাকমা, ১০.শিশু অর্থপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা।সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রকাশ চাকমা ও মো: আশিক,এছাড়াও সেবা দিয়েছেন সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান,মেডিসিন বিভাগ ও অন্যান্যরা।