বেনাপোল কাস্টমসে এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্যে মেতেছেন কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২২

 জাহিদ হাসান |

যশোরের বন্দর নগরী বেনাপোল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর। এই বন্দর দিয়ে বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে আমদানি রপ্তানি পণ্যের শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু কিছু অসাধু সরকারি কাস্টমস কর্মকর্তার জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বেনাপোল কাস্টমসে প্রতিটি শুল্কায়ণ গ্রুপ, পরীক্ষণ গ্রুপ, আই আর এম গ্রুপ, ম্যানিফেস্ট শাখা, এক্সপোর্ট গ্রুপ সহ অনেক জেসি ডিসিদের জন্য রয়েছে ব্যাঙের ছাতার মত অসংখ্য অবৈধ এনজিও কর্মী। এরা কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাহায্যের জন্য নিয়োগ পেয়ে থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ঘুষ নেওয়ার মাধ্যম হিসাবে অর্থাৎ কাস্টমস কর্মকর্তা ও সিএন্ডএফ মালিকদের মধ্যে সেটেলমেন্ট কর্মী হিসাবে কাজ করে থাকে।

বেনাপোল কাস্টমসে কর্মরত বেশিরভাগ অবৈধ এনজিও কর্মীদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় প্রত্যেকেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। বিশাল বাড়ি গাড়ি সহ কিনেছেন বিঘা বিঘা জমি। যেখানে কাস্টমসে নেই তাদের কোন বেতন এবং বৈধ পরিচয়। অনেকেই এসকল অবৈধ সম্পত্তি করেছেন তাদের স্ত্রী এবং আত্মীয় স্বজনের নামে।

বেনাপোল কাস্টমসে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ এনজিও কর্মী বিভিন্ন গ্রুপে কর্মরত আছে। তাদের মধ্যে শুল্কায়ন গ্রুপ-১ এ জাকারিয়া, ওমর। গ্রুপ-২ এ মামুন, হারুন। গ্রুপ-৩ এ হোসেন। গ্রুপ-৪ এ মাসুদ, দেলোয়ার, মিন্টু। গ্রুপ-৫ এ সুজন, বশির। গ্রুপ-৬ এ হাসিব। গ্রুপ-৮ এ জালাল। এক্সপোর্ট গ্রুপ-৭ ও ৯ এ আছেন হাফিজ, আশরাফ। পরীক্ষণ গ্রুপ-১ এ নাসির। গ্রুপ-২ নাসির, এনায়েত। গ্রুপ-৩ এ সবুর, সোহেল, আজিজ। গ্রুপ-৪ এ জিন্নাত, দিদারুল। গ্রুপ-৫ এ আক্তার, সজীব, রাব্বি। আই আর এম পরীক্ষণ শাখায় আক্তার, টুকু, রাসেল। আই আর এম ডিসির অধিনে মাহাবুর। ম্যানিফেস্ট শাখায় মালেক, পারভেজ ও সাইফুল। শুল্কায়ণ গ্রুপ-২ এর ডিসির অধীনে সোহাগ। শুল্কায়ণ গ্রুপ-৩ এর ডিসির অধীনে ফয়সাল। শুল্কায়ণ গ্রুপ-৪ ও ৫ এর ডিসির অধীনে সজীব। শুল্কায়ণ গ্রুপ-৬ এর ডিসির অধীনে সুরোত আলী। শুল্কায়ণ গ্রুপ- ৭ ও ৮ এর এসির অধীনে মামুন। জেসি-১ এর অধীনে শাহজাহান ও আব্দুল্লাহ। জেসি-২ এর অধীনে শফিকুল। কাঁচামাল পরীক্ষণ গ্রুপে আছে মনসুর ও জাকির।

এসব এনজিও কর্মীদের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএন্ডএফ কর্মকর্তা বলেন, শুল্কায়ণ এর জন্য ৩, ৪ ,৫ ও ৬ নং গ্রুপে ফাইল গেলে ১০ হাজার টাকার নিচে কোন ফাইলে সই করেন না। এছাড়াও অন্যান্য গ্রুপে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে চলে লাখ লাখ টাকার লেনদেন এবং এসব টাকার রফাদফা করে থাকে এনজিও কর্মীরা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এর স্টাফ এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক শাকিলুর রহমান শাকিল বলেন, বেনাপোল কাস্টমসে বহিরাগত এনজিও কর্মীরা কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়ে আমাদের হয়রানি সহ কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং নানা ভাবে ভুল তথ্য সহ বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছে। এ সকল বহিরাগত এনজিও কর্মীদের বেনাপোল কাস্টমস থেকে অপসারণ করলে কাজের গতি বৃদ্ধি সহ রাজস্ব আদায় বহুল অংশে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হইনি।