নারী পুরুষের বৈষম্য অবসান হবে একদিন;শেফালিকা ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“টেকসই আগামীর জন্য,জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাল্যবিবাহ রোধে করণীয় এবং নারী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার(৮ই মার্চ)বিকালের দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ছোটবাড়ী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কর্ম-উদ্যোগ প্রোগ্রাম খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি(কেএমকেএস)’র আয়োজনে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা(GAC)’র অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন(MJF)’র সহযোগিতায় এ বাল্যবিবাহ রোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা।

এ সময় কেএমকেএস’র ফিল্ড অফিসার ডালিয়া ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় কেএমকেএস’র নির্বাহী পরিচাক শেফালিকা বলেন,নারী পুরুষের বৈষম্য অবসান হবে একদিন।নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে সম-অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। সারাবিশ্বে তাই আজ বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারীর কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এদেশের নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেমন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।আমরা নারী,আমরা সবই পারি। নারীরা আজ ঘরে বসে থাকেনা,তারা আজ বিমান চালাচ্ছে,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানান ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখন দৃশ্যমান।

তিনি আরো বলেন,বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। জাতীয় পরিকল্পনার মধ্যে যথাযথ বাজেট ও বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে মেয়েদের শিক্ষার ওপর বেশি জোর দিতে হবে। আবার এ শিক্ষা কর্মক্ষেত্রে কতটা কার্যকর, সেটাও দেখতে হবে। মেয়েরা চাকরি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আইন থাকা সত্ত্বেও যৌন হয়রানি বেড়ে চলেছে। মেয়েদের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। ছেলেমেয়ে দুজনকেই সমান গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি। তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাপলা দেবী ত্রিপুরা বলেন,
বাংলাদেশের নারীরা ১৯৫৭ সালে ৮ মার্চ মজুরী বৈষম্য কর্মঘন্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রের বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর দমন পীড়ন চালায় মালিক পক্ষ।
এই দিন কে সম্মান জানিয়ে ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়ে থাকে প্রতিবছর।
img src=”https://ajkal24.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG-20220308-WA0027-300×135.jpg” alt=”” width=”300″ height=”135″ class=”alignnone size-medium wp-image-12366″ />
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে নারী উদ্যোক্তা ও সমাজ সেবক এবং কেএমকেএস’র নির্বাহী সদস্য শাপলা দেবী ত্রিপুরা,কেএমকেএস’র ভলান্টিয়ার লিমা ত্রিপুরা,মুরুব্বি মোঃ জমির উদ্দিন,ছোটবাড়ি পাড়ার নারী নেত্রী কিনাশ্রী ত্রিপুরা প্রমুখ।এছাড়াও অফিস সহায়ক লিমা ত্রিপুরা,কমিউনিটি মোবিলাইজার শুক্লা দাশসহ স্থানীরা নারী ও কিশেরীরা উপস্থিত ছিলেন।