ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করুন

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২২

জানি কথাটা শুনে অনেকেই ভ্রু কুঁচকাবেন-ভিক্ষুককে কিছু টাকা দান করতে সমস্যা কী? হ্যাঁ, কথা সত্য; কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমরা যারা মানবতার তাগিদে রাস্তায় দাঁড়ানো ভিক্ষুককে কিছু টাকা দিয়ে হলেও তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই, এবার সময় এসেছে এ নিয়ে তাদের একটু ভাবার। ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ে দেশে বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু মানুষের রয়েছে রমরমা ব্যবসা। প্রতিটি এলাকায় ভিক্ষুকদের নিয়ে চলে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। নানাভাবে ফাঁদ পাতা এবং বিভিন্ন অমানবিক কাজ করানো হয় ভিক্ষুকদের দিয়ে। ভিক্ষুকদের অঙ্গচ্ছেদ করা থেকে শুরু করে তাদের দিয়ে শিশু চুরি করানোর মতো অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। উল্লেখ্য, নানা বেশধারী ভিক্ষুক পথেঘাটে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ভিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এদের থাকে অতিরিক্ত চাহিদা। অনেক সময় দেখা যায় কয়েন বা খুচরা পয়সা দেওয়া হলে তারা সেটি দাতার সামনেই ছুড়ে ফেলে দেয় তাকে হেয় করার জন্য। তাছাড়া এরা অনেক সময় বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে নারী এবং স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে। এসব কারণে ভিক্ষুকদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা বদলে যাচ্ছে। যারা প্রকৃতই সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, তারা জনগণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার রাজপথে হাজার হাজার ভিক্ষুক। অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরও কেন এত মানুষ খাদ্য-বস্ত্রের অভাবে পথে বসছে? এরা কি সত্যিকারের দরিদ্র, নাকি এটা তাদের পেশা? এদের মধ্যে সত্যিকার অর্থে যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, তাদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগের উচিত মাঠপর্যায়ে এসে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে বাজেটে এদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং আর্থসামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করতে সরকার ও নগর প্রশাসন যদি এখনই সোচ্চার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

মানব ধর্ম বড় ধর্ম। তাই আমরা যারা সত্যিকার অর্থে অসহায়দের সাহায্য করতে চাই, তারা এই সংকটময় পরিস্থিতি না কাটা পর্যন্ত কষ্ট করে হলেও ভিক্ষুককে আর্থিক সাহায্য না করে অর্থাৎ টাকা না দিয়ে তাদের জন্য খাবার, শীতের কাপড় কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজে কিনে দিতে পারি। তাহলে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করার বিষয়টি নিরুৎসাহিত হবে। যারা ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে নিয়েছে, তাদের সংখ্যা কমবে।

অনন্যা দাস
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা