ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনায় আপোষ !

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

আদমদীঘিতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়েছে ইউএনও’র নিরাপত্তার দায়ীত্বে থাকা অস্ত্রধারী দুই আনসার সদস্য। শুধু পিটিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে বেশ কিছু টাকা। ব্যবসায়ী যুবককে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে ঘেছে। কিন্ত টনক নড়েনি প্রশসনের। ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দিতে চালানো হচ্ছে নানা ফন্দি-ফিকির।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়ীত্ব পালনকারি আনসার রাকিবুল ইসলাম ও হাফিজ উদ্দিন সর্টগান নিয়ে গত শনিবার উপজেলার চাঁপাপুর বাজারে যায়। সেখানে বিভিন্ন মার্কেটে ও দোকানপাটে হানা দেয়। আচরণ করতে থাকেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের মত। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল গালমন্দ করার সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে ভীতিকর অবস্থা এবং ত্রাস সৃষ্টি করে। দোকানে দোকানে শুরু করে চাঁদাবাজি। এসময় জটলা করতে থাকে উৎসুক জনতা। এদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক জেমস নামের এক ব্যবসায়ীও ছিল। সে চাঁদাবাজির চিত্র ধারণ করছে এমন সন্দেহে তাকে ধরে ফেলে আনসার সদস্যরা। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্রধারী আনসার সদস্যরা ওই যুবককে জেরা করার এক পর্যায়ে বেধরক চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে বাজার থেকে কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার ভয় দেখানো শুরু করে। এক সময় ওই ব্যবসায়ীর প্যান্টের পকেট থেকে দুই হাজার দুই শ’ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। নির্যাতিত ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক দাবী করেন, ওই দিনই ঘটনাটি ইউএনও সীমা শারমিনকে অবহিত করে বিচার প্রার্থী হন। কিন্তু এক সপ্তাহেও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো অভিযুক্ত আনসার সদস্য রাকিবুল ব্যবসায়ী রাজ্জাকের নামে থানায় অভিযোগ করেন। এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্য জালাল উদ্দীন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আনসার সদস্যদের চাঁদাবাজির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার সীমা শারমীন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু এবং থানা পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আনসার সদস্যরা নির্যাতিত ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জেমস এর নিকট করা অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করার মাধ্যমে সংঘটিত ঘটনার আপোষ-মিমাংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই দুই আনসার সদস্যকে ক্যাম্পাস ডিউটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।