মাটিরাঙ্গায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র কর্তৃক গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’র অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি’র ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র বাস্তবায়নে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর ইউনিয়নে বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের “জাগরণ” নামক পথনাটক প্রদর্শন,নৃত্য,গান পরিবেশন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার(১৮এপ্রিল) অত্র ইউনিয়নের প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক নাটক,গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।এ সময় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র চেয়ার পার্সন চামেলী ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার(UNO) তৃলা দেব।

অনুষ্ঠানে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র মনিটরিং ও রিপোর্টিং অফিসার মিহির কান্তি ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তৃলা দপব বলেন,আমাদের দেশে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় যারা বসবাস করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমস্যা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করতে পারেনা তারা থানায় আসে।কিন্তু অনেকে তো থানায় আসতে পারেনা,থানায় কিংবা কোর্টে এসে বিচার চাওয়ার বিষয়ে তারা এতোটা অবগত নই কিংবা যেকোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার জন্য তারা আসতে পারেনা।এজন্য এখন বাংলাদেশ সরকার খুব অল্প সময়ে, অল্প খরচে নিরপেক্ষ বিচার পেতে পারেন,সে ব্যবস্থা করে দিয়েছে,আর সেই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে ইউএনডিপি ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা।
এখন খুব সহজে কার্বারী/হেডম্যান/রাজ কার্যালয়ের মৌখিক বা লিখিতভাবে মামলা দায়ের করতে পারেন বিচার প্রার্থীরা। গ্রাম আদালত কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারলে থানা ও কোর্ট আদালতের ওপর চাপ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন।সে জন্যই সরকার গ্রাম আদালতকে যুগােপযােগী, জনবান্ধব ও অধিকতর কার্যকরী করার লক্ষ্যে ‘গ্রাম আদালত আইন-২০০৬’ সংশােধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি ।

তিনি আরও বলেন,আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসে,আমরা যদি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে শক্ত ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা চালু করা হলে আমাদের প্রতিও চাপ কমে যাবে।সকলেই নিরপেক্ষতার সাথে বিচার করবে এবং সঠিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচার প্রার্থীরা সুবিচার পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ সম্পর্কিত আইনি কাঠামাে সংস্কার এবং সংশােধনীর ক্ষেত্রসমূহ চূড়ান্তকরণের জন্য ইউরােপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএনডিপি’র কারিগরি সহায়তায় এই সুন্দর একটি সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থাকে সাধুবাদ জানান তিনি।

অন্যন্য বক্তারা বলেন,গ্রাম আদালত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি দারুণ বিষয়। কারণ অনেক মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে আদালতের দ্বারস্থ হন, ফলে সেখানেও চাপ বেড়ে যায়। খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়েও মামলা হচ্ছে।আমরা মনে করি আমরা গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে পারলে আদালতের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এরফলে মানুষই সুবিধা পাবে, তাদের সময়- অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেমেন্দ্র ত্রিপুরা,মাটিরাঙ্গা উপজেলার কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি বিবিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা প্রমুখ।
এছাড়াও অত্র ইউনিয়নের মহিলা সদস্য হারবী ত্রিপুরা,আপাই মগিনী,প্রকাজয় ত্রিপুরা,শান্তিময় ত্রিপুরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়)
প্রকল্পের তথ্যমতে,প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় যেখানে প্রথাগত বিচার মিলে যেখানে সেগুলো হলো..১/রাজা/সার্কেল চীফ,হেডম্যান/মৌজাতে,৩/গ্রাম্য বা পাড়া কার্বারী।
প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় যেসব বিষয়ে সমাধান পাওয়া যায়ঃ
১/ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় সংক্রান্ত, ২/যেমন:সামাজিক বিচার, ৩/প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত বিচার, ৪/ভূমি সংক্রান্ত বিচার।

প্রথাগত বিচার প্রক্রিয়াঃ
যেমনঃ১.কার্বারী/হেডম্যান/রাজ কার্যালয়ের মৌখিক বা লিখিতভাবে মামলা দায়ের,২.প্রথাগত বিচারক কর্তৃক প্রচলিত প্রথাগত মামলা অনুসরণ,৩.বিচারকার্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ, ৪.বিচারক কর্তৃক মামলার রায় প্রদান এবং আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর পুনর্মিল, ৫.বিচারক,আবেদনকারী ও প্রতিবাদী কর্তৃক মামলা ও রায় সংক্রান্ত তথ্যের কপি সংরক্ষণ।

যেসব বিরোধের ক্ষেত্রে প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা সমাধান পাওয়া যায় নাঃ
যেমন…১/রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সম্পর্কিত,রাজশক্তির অধীনে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ অথবা গণন্যায্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
২/মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে এমন সংঘটিত দাঙ্গা অথবা গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে এমন দাঙ্গা।
৩/ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধসমূহ(যেমন:খুনঅপরাধমূলক নরহত্যা,ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত)
৪/চাঁদাবাজি,দস্যুতা,ডাকাতি,অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ,অনধিকার গৃহপ্রবেশ,অপথে গৃহপ্রবেশ যখন ৫০টাকার অধিক মূল্যের সম্পত্তি জড়িত।
৫/অবৈধ অবরোধ,ধর্ষণ,অপহরণ এবং অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ।৬/জালিয়াতি। ৭/পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন,১৯০০এর ৪র্থ অধ্যায়ের বর্ণিত অপরাধসমূহ(যেমন:অগ্নেয়াস্ত্র,গোলাবারুদ এবং গান পাউডার,মাদক দ্রব্য,স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত স্পিরিট ও অন্যান্য মাদক সংক্রান্ত), ৮/কমিশনার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া অন্যান্য অপরাধসমূহ।