মাতৃভাষাকে বিলীন হতে দেয়া যাবেনা;উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম

প্রকাশিত: ২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার (৩১মে) দুপুর ২ টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে এফসিডিও এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে জাবারাং কল্যাণ সমিতি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেতু-এমএলই প্রকল্পের আয়োজনে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের সাথে এমএলই পাঠদান পরিচালনা বিষয়ক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: রবিউল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: রবিউল ইসলাম মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে প্রয়াস দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জাবারাং কল্যাণ সমিতিসহ সকল শিক্ষকদের প্রতি অভিবাদন জ্ঞাপন করেন। জাবারাং কল্যাণ সমিতি সেতু-এমএলই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা কর্মসূচিকে বাস্তব রূপ দিতে সরকারের উদ্যোগকেই সহযোগিতা করছেন। প্রকল্প চলমান থাকায় তার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, শিখন সামগ্রী সরবরাহ, পাঠদান পর্যবেক্ষণসহ গবেষণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে, এর থেকে উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যে কোন প্রকল্পের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। তবে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রকল্পের মেয়াদ যদিওবা দুর্ভাগ্যবশত: শেষ হয়ে যায় তবে স্কুল পর্যায়ে মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম আন্তরিকতার সাথে চলমান রাখতে আহবান জানান তিনি। মাতৃভাষাকে বিলীন হতে দেয়া যাবেনা, হারিয়ে যেতে দেবো না এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেতু-এমএলই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বিদ্যালয় পর্যায়ে চাকমা, মারমা ও ককবরক মাতৃভাষায় পাঠদানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন প্রকল্পের সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।

বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদানে নানান প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা নিয়ে উপস্থিত সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মনি ভূষণ ত্রিপুরা, জয়ন্তি ত্রিপুরা, মিতালী ত্রিপুরা, প্রবীর ত্রিপুরা, নাওয়া মারমা, উচিংনু চৌধুরী, আদুমে মারমা, চন্দ্র বিকাশ চাকমা, জীবন লাল চাকমা, অনক ত্রিপুরা, ক্যাটালিনা চাকমা, মহল লাল চাকমা ও অজীন্দ্র ত্রিপুরা প্রমুখ।

প্রকল্পের পক্ষ হতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মাতৃভাষায় সহপাঠক্রমিক উপকরণ শ্রেণিভিত্তিক ছড়া, কবিতা, গল্প বই, বর্ণ চার্ট বিতরণসহ বেসরকারিভাবে কমিউনিটি শিক্ষক সহায়তা দান মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়েছে। এরপরও মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অনেক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন বক্তারা। বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ভাষাগোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক স্বল্পতা, রুটিন নির্দেশনা না থাকা, মূল্যায়ন নির্দেশনা না থাকা, অধিদপ্তর কর্তৃক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, শিখন সামগ্রী নিয়মিত সরবরাহ না থাকা প্রতিবন্ধকতাসমূহের উল্লেখযোগ্য। মাতৃভাষায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন সফল করতে সভায় বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এমএলই সেল গঠন, রুটিন নির্দেশনাসহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রদান করতে সুপারিশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টর রিন্টু কুমার চাকমা, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কনিকা খীসা ও সুভায়ন খীসা প্রমুখ।