মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার কারন কি??

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নিতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নানা ঘটনার জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পও এদিন বিদায় নেবেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি দুপুরে শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হবেন তিনি।

চার বছর আগে একইভাবে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি অভিষিক্ত হয়েছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগের বারাক ওবামাসহ সাম্প্রতিক সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেকই জানুয়ারির ২০ তারিখেই হয়েছে। কিন্তু কেন ও কবে থেকে এই দিনে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথের এই রেওয়াজ পালন করা হচ্ছে?

সরকার বদলের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশেই কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে। বিষয়টি একেক দেশের ক্ষেত্রে একেক রকম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত সুনির্দিষ্ট নিয়ম কোনো দেশেই সম্ভবত নেই। যেমন ২০২১ সালেই বলে দেওয়া যাচ্ছে, আগামী ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন। দেশটির সাধারণ নির্বাচন থেকে শুরু করে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণসহ প্রতিটি ধাপ খুবই সুনির্দিষ্ট।

২০ জানুয়ারিতেই নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কেন শপথ নেন? এর উত্তর হলো সংবিধান। মার্কিন সংবিধানের ২০তম সংশোধনী অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পরের বছরের ২০ জানুয়ারি দুপুরে নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন। আর এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান হিসেবে অভিষিক্ত হবেন তিনি।

২০ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন আগের প্রেসিডেন্ট। এই সময়ের পর আর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এবার যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে ২০ জানুয়ারি ঠিক দুপুরে।

কিন্তু কবে থেকে চালু হলো এই রেওয়াজ? গবেষণা বিষয়ক পত্রিকা লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৩৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। ওটা ছিল তার দ্বিতীয় মেয়াদ। সময়ের হিসাব করলে এই রেওয়াজের বয়স শত বছরও ছোঁয়নি। কারণ প্রথম মেয়াদেই ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট শপথ নিয়েছিলেন সংবিধানে উল্লিখিত ৪ মার্চ। এবং তার আগের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই ওই ৪ মার্চই শপথ নিয়েছেন, ১৭৮৯ সালের সংবিধানের ধারাবাহিকতা মেনে।

যদিও একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে নির্বাচনের পর নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার পর্যন্ত এত বিরতি কেন? মূলত দুটি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কারণটি হলো, নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটনে এসে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য আসাটা সময় সাপেক্ষ বিষয়। কারণ, আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ খারাপ ছিল। ফলে, দূরের প্রান্ত থেকে কেউ এসে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য একটা লম্বা সময় এই ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।

দ্বিতীয় কারণটিই মুখ্য, আর তা হলো ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিদায়ী প্রশাসনের কাছ থেকে নানা তথ্য নতুন প্রশাসনকে দেওয়া, নতুন প্রশাসনের মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া ইত্যাদি কাজের জন্য একটা সময় প্রয়োজন। আগে প্রযুক্তি উন্নত ছিল না। ফলে নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শপথ গ্রহণের জন্য মোটাদাগে চার মাসের একটা সময় রাখা হতো।

কিন্তু সমস্যা হয় ১৮৬১ সালে। সে বছর মার্চে আব্রাহাম লিঙ্কন ক্ষমতা গ্রহণ করতে করতে চলমান গৃহযুদ্ধে মার্কিন পক্ষের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এই একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সাত দশক পর ১৯৩৩ সালেও। মহামন্দার সেই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। অবস্থা এতটাই বাজে ছিল যে, মানুষ উদ্গ্রীব হয়ে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের অপেক্ষা করছিল।

সেই বছরই প্রথম এই দীর্ঘ বিরতি একটা বড় সমস্যা হিসেবে সামনে হাজির হয়। আনা হয় সংবিধানের ২০তম সংশোধনী, যেখানে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেকের দিন হিসেবে ২০ জানুয়ারির কথা বলা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। কোনো বছরের ২০ জানুয়ারি যদি রবিবার পড়ে, তবে প্রেসিডেন্ট শপথ নিলেও বাকি আনুষ্ঠানিকতা পরদিনের জন্য তোলা থাকবে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের সময় এমন ঘটনা ঘটেছিল।