মিথ্যা অভিযোগে প্রতিবন্ধী নির্যাতনের সাজা ২০ হাজার টাকা

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

সান্তাহার ইউনিয়নের কাশিমিলা গ্রামের এক প্রতিবন্ধীর বিরুদ্ধে তোলা মোবাইল চুরির অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে। মোঃ সুরজ (৩৫) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া ও নির্মম ভাবে নির্যাতন করা অপরাধী শরেফুলের সাজা ধার্য করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। শনিবার গ্রামে বসানো শালিসে মোবাইল মালিক শরেফুলের অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়। ফলে ওই রায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফৌজদারী আইনের ঘটনা নিয়ে শালিস করা যায় কি-না সেটা সাধারণ জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পরদিন সান্তাহার শহর সংলগ্ন কাশিমিলা গ্রামের মোড়ে অবস্থিত মার্কেটের মালিক শরেফুল তার দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে বলে দাবী করে। পরে ওই মোবাইল চুরির অভিযোগে ওই দিন রাতে সে একই গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক সুরজকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে সাপ পেটানোর মত নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত করে।

চেপে রাখা ঘটনাটি ভইরাল হলে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ফলে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই গ্রামের স্কুল মাঠে শালিস বৈঠক বসানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গ্রামের বাসিন্দা সাবেক শিক্ষক আজিজার রহমান। সেখানে স্বাক্ষ্য প্রমানে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয় এবং আরো প্রমানিত হয় যে মোবাইলটি চুরি-ই হয়নি। তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনগত জটিলতা থাকায় আমরা কোন শালিস বা দরবার করিনি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষজন বসেছিলাম। সেখানে মানসিক প্রতিবন্ধী সুরজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়। এ কারনে এবং অন্যায় ভাবে নির্যাতন করায় চিকিৎসা খরচ হিসাবে শরেফুলের নিকট থেকে ওই টাকা নিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি আরো জানান, সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু এবং গ্রামের মুরব্বীগণ সম্মিলিত ভাবে ওই রায় প্রদান করেন। এছাড়া শরেফুল হাতজোড় ক্ষামা প্রার্থনা করায় সুরজের হতদরীদ্র পরিবার তা মেনে নেয়।