মিথ্যা ধর্ষণ মামলার তথ্য ফাঁসের অভিযোগে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২২

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করানোর পর সে তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লি কোমারপুর গ্রামের শিয়ালগাড়ি পাড়ায়। এ ঘটনায় পুলিশ নির্যাতিত গৃহবধূ শ্যামলী বেগমকে উদ্ধার এবং তার স্বামী রফিকুল ইসলামকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার চাটখইর উত্তরপাড়া গ্রামের মমতাজ মন্ডলের মেয়ে শ্যামলী বেগমের সাথে প্রায় দেড় বছর আগে রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্যামলী জানতে পারেন তার স্বামী একজন বিকৃত মানসিকতার ও স্ত্রী নির্যাতনকারি এবং বদমেজাজি ব্যক্তি। পূর্বে সে আরো ১০ বিয়ে করেছে এবং নানান ফন্দি করে অল্প দিনের মধ্যে তালাক দিয়েছে। শ্যামলীর দাবি তিনি রফিকুলের ১১ নম্বর স্ত্রী। সব কিছু জানা এবং নির্মম নির্যাতন সহ্য করেই স্বামীর সংসার করে আসছেন শ্যামলী। কিন্তু বিকৃত মানসিকতার রফিকুল বরাবরের মত এই স্ত্রীর সাথেও বেশি দিন সংসার করতে রাজী নয়। পূর্বের স্ত্রীদের মত শ্যামলীকেও চক্রান্ত করে তালাক দেওয়ার ফন্দি করে।

শনিবার দুপুরে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডের ১০ নং শয্যায় গণমাধ্যমকর্মীর কথা হয় শ্যামলী বেগমের সাথে। শ্যামলী জানান, পাওয়ারটিলার মেশিন দিয়ে জমি চাষ করে দেওয়ার পাওনা এক হাজার টাকা নিয়ে প্রতিবেশী দুলু ফকির ও হান্নান ফকিরের সাথে তার স্বামীর বিবাদ চলছিল। ওই দুইজনকে শায়েস্তা করার জন্য স্বামী আমাকে ধর্ষণ মামলা করতে বলে। আমি মিথ্যা মামলা করতে রাজী না হলে তিনি আমাকে মেরে ফেলবে এবং কি উপায়ে প্রাণে মেরে ফেলবে সে পরিকল্পনার কথা জানায়। ফলে নিজে বাঁচতে গিয়ে ৬ এপ্রিল থানায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করতে বাধ্য হই। সে মামলায় পুলিশ দুই ভাইকে গ্রেফতার করে। মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর দিনই রহস্যজনক ভাবে তথ্যটি ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামের মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জন্য রফিকুল তার স্ত্রী শ্যামলীকে দোষী করে। এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে শ্যামলীকে শারীরিক ভাবে অমানুষিক নির্যাতন এবং এক পর্যায়ে মাথার চুল কেটে প্রায় ন্যাড়া করে দেয়।

গ্রামের লোকজন ঘটনাটি পুলিশকে জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামলী বেগমকে উদ্ধার এবং তার স্বামী রফিকুলকে আটক করে। পরে পুলিশ নির্যাতিত শ্যামলী বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয় এবং স্বামী রফিকুলকে গ্রেফতার করে। আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক এ,এস,এম হাবিবুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন শ্যামলী বেগমের পুরো শরীরে নির্যাতনের দাগ এবং বাম হাতে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। তার মাথার চুল বিশ্রি ভাবে কেটে দেয়া হয়েছে।