যদি দেশটাকে ভালোবাসো,প্রত্যেককে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে;রণ বিক্রম ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে”বধ্যভূমি পরিবেশ থিয়েটার” নির্মাণে জেলা নাট্যশিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে প্রাক প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।শুক্রবার(১২নভেম্বর)বিকাল ৪টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক জিতেন বড়ুয়া’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,খাগড়াছড়ি জেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলেন ,আমার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা ছিল।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আগরতলায় যে অফিস টা ছিল, তিনি সে অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিল।আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছি,আমার ছোটভাই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে এবং আমার দুলাভাই ও মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।তিনি ছিলেন ট্রাসটফোর্স অফিসার।আমিও খুব অল্প বয়সের পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা কমান্ডারের দায়িত্ব পেয়েছিলাম।যুদ্ধকালীন সময়ে।তখন আমার বয়স ছিল বাইশ(২২)বছর।বাইশ বছর বয়সে এতবড় তিনপার্বত্য জেলার ডিস্ট্রিক্ট কমান্ডারের দায়িত্ব পেয়েছি,এটা আমার সৌভাগ্য।আমার সবচেয়ে পরম সৌভাগ্য হলো,আমি মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণ করতে পেরেছি।আর কেউ পারবে ভবিষ্যতে পারবে কিনা, আমি জানিনা,কিন্তু পেরেছি।এজন্য আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি।আমি আরো গর্ববোধ করি,আমি তখন ছাত্রলীগ করতাম।আমি আরো গর্ববোধ করি,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনবার পায়ে ধরে সালাম করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।এইগুলো গল্পের মতো হলেও, এ গল্পটা সত্য এবং বাস্তব।সে সময় সারা বাংলাদেশে একে একটা জায়গায় প্রতিটা দিন এক একটা গণহত্যা হয়েছিল।অসংখ্য মা-বোনদের নির্যাতন,হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,জাতির পিতা এদেশকে একটি সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন।তোমরা যুবক-যুবতী যারা আছো,তোমাদেরকে এদেশটাকে ভালোবাসতে হবে।যদি দেশটাকে ভালোবাসো, প্রত্যেকে সোনার মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে।সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে,তোমরা ২০৪১সালে এদেশটি একটা উন্নত দেশ হয়ে গেছে।আমি বিশ্বাস তোমরাই পারবে,এদেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তোমরা নিজেকে চিনো,নিজেকে চিনলে তোমরা এদেশটাকে চিনবে।
পরিশেষে তিনি, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে”বধ্যভূমি পরিবেশ থিয়েটার” নির্মাণে জেলা নাট্যশিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে প্রাক প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা’র জন্য শুভ কামনা জানান।


এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক সুবীর মহাজন,দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির জেলার সভাপতি সুদর্শন দত্ত প্রমুখ।