যশোরে এয়ারপোর্ট চালুর উদ্যোগ

প্রকাশিত: 11:37 PM, June 6, 2020

প্রায় দুই মাস আগে যশোর এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে দরকারী সরঞ্জামসহ মেডিকেল টিম চেয়েছিলো। কিন্তু সেই চাওয়া আজও পূরণ হয়নি।কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ২ মাসের বেশি সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর দেশের ৪টি এয়ারপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খোলেনি ডোমেস্টিক রুটের গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্ট যশোর।
আজ অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দ্রুত এই বিমানবন্দরে ১টি মেডিকেল টিম নিয়োজিত করতে দরকারি ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।সভায় সিভিল সার্জন জানিয়েছে, তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলে দরকারি ব্যবস্থা নেবেন।
সাধারণ ছুটি শেষে ঢাকা,চট্টগ্রাম,সিলেট ও সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে উড়োজাহাজ চলাচল করছে। অবশ্য আগে থেকেই রাজধানীর হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমিত আকারে চালু ছিল। চালু হওয়া অন্য ৩টি এয়ারপোর্টের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলে। সেখানে আগে থেকেই মেডিকেল টিম কাজ করে। আর লকডাউনের ঠিক আগ দিয়ে সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ মেডিকেল টিম পায়।
দেশের বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এখনো বন্ধ রয়েছে যশোর, রাজশাহী, কক্সবাজার ও বরিশাল। উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে কোনো সন্দেহভাজন করোনা রোগী রয়েছেন কি-না তা যাচাই করার সুযোগ না থাকায় এই বিমানবন্দরগুলো এখনো চালু হয়নি।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দরটি যশোরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নির্মিত প্রাচীন এই এয়ারপোর্টটি সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি মিলে ১২টি ফ্লাইট চলতো। এর মধ্যে ইউএস-বাংলার ৬টি, নভোএয়ারের ৫টি এবং বাংলাদেশ বিমানের ১টি ফ্লাইট যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করতো।
যশোরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার মো. মাসুদুল হক আজ শনিবার দুপুরে বলেন, এই এয়ারপোর্টে যে মেডিকেল টিম লাগবে, তা প্রায় দুই মাস আগে আমাদের হেড কোয়ার্টার থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাড়া মেলেনি। আজ আমি নিজে আবার আমার হেড কোয়ার্টারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। গতকাল যোগাযোগ করেছিলাম যশোরের সিভিল সার্জনের সঙ্গে। তিনি আমাকে জানিয়েছে। এয়ারপোর্টে মেডিকেল টিম দেওয়ার কোনো নির্দেশনা তার ঊর্ধ্বতন মহল এখনো দেননি।
এক প্রশ্নের জবাবে এয়ারপোর্ট ম্যানেজার জানিয়েছে, যশোর বিমানবন্দরে এখন শুধু কার্গো ও রোগী বহনকারী হেলিকপ্টার চলছে। মেডিকেল টিম নিযুক্ত করা হলে এই এয়ারপোর্ট থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। মেডিকেল টিমের ব্যবহারের জন্য কক্ষ বরাদ্দও করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে তিনি জানান।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘এয়ারপোর্টে মেডিকেল টিম নিযুক্ত করতে আমি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তরফেও যে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সিভিল সার্জন তাও নিশ্চিত করে।জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ যিনি আজ ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় সভাপতিত্ব করেছে, দুপুরে বলেন, সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এয়ারপোর্টে মেডিকেল টিম নিযুক্ত করতে হবে। সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
যাতায়াতের ক্ষেত্রে যশোর এয়ারপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় এক ডজন জেলার মানুষ রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য এই এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে। গুরুত্ব ও যাত্রীর চাপ বিবেচনায় এখানে নতুন একটি টারমিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও নির্মাণকাজ কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে থমকে গেছে। দিনে গড়ে এক হাজারের বেশি যাত্রী এখানে ওঠা-নামা করেন। দেশে করোনাভাইরাস বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গেল (২৫ মার্চ) দেশের সব এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। (২৪ মার্চ) যশোর এয়ারপোর্টে সবশেষ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলেছে।