ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি

যশোর প্রশাসনের সাথে বৈঠকে মেস ভাড়া কম নেয়ার প্রতিশ্রুতি রাখছেন না বাড়ির মালিকরা

প্রকাশিত: 12:22 PM, June 8, 2020

সালমান হাসান রাজিব
মেসভাড়া মওকুফ নিয়ে যশোরে বাড়ি মালিকদের সাথে দুই দফা বৈঠক করেছে প্রশাসন। দুটি বৈঠকের প্রতিটিতেই ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড় দিতেও রাজি হন বাড়ির মালিকরা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক উল্টোটা। বাড়ির মালিকরা শিক্ষার্থীদের মেসভাড়ায় কোন ধরণের ছাড় দিচ্ছেন না। ভাড়া পুরোটায় উশুল করছেন। অথচ প্রশাসনের সাথে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে বাড়ি মালিকরা মেসভাড়ার ২৫ শতাংশ ছাড় দিতে রাজি হয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি মালিকদের মেসভাড়া মওকুফে বাধ্য করতে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাড়ির মালিকরা ভাড়া মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিলেও এটি নিয়ে এখন টালবাহানা করছেন। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের কোন ধরণের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ভাড়ার পুরোটাই আদায় করে ছাড়ছেন। কিন্তু তারা একবারও ভেবে দেখছেন না শিক্ষার্থীরা দুই মাসের বেশি সময় ধরে মেসে থাকছেনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরপরই তারা বাড়িতে চলে গেছেন। আর এখনও বাড়িতেই অবস্থান করছেন। এমতাবস্থায় ভাড়ার পুরোটা উশুল মোটেও স্বাভাবিক নয়। এছাড়া করোনা দূর্যোগ-কালীন পরিস্থিতির মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছেন। তাই এই সময়টায় মানবিক বিবেচনায় বাড়ির মালিকদের উচিত ভাড়ায় ছাড় দেওয়া।

জানা গেছে, করোনা সতর্কতার মধ্যে গত ১৭ মার্চের পর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় সব সেক্টরের সাধারণ ছুটি। ফলে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে মার্চেই মেস ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষার্থীরা। সেই থেকে মে পর্যন্ত এখনও প্রায় দুই মাস হতে চলছে শিক্ষার্থীরা বাড়িতেই থাকছেন। মেসগুলোও খালি পড়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মূল ভাড়ার ৪০ শতাংশের বেশি না দিতে আহবান জানানো হয়েছে। ছাত্র নেতৃবৃন্দের অনেকেই এমন আহবান জানিয়ে তাদের ফেসবুকের টাইম লাইনে পোস্টও দিয়েছেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী জানিয়েছেন, মেসভাড়া মওকুফ নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাড়ি মালিকদের সাথে জেলা প্রশাসনের একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ছাত্রনেতৃবৃন্দ তখন মানবিক দিক বিবেচনায় ৬০ শতাংশ মেসভাড়া মওকুফের প্রস্তাব জানানো হয়। আর এই প্রস্তাবে বাড়ি মালিকরা রাজিও হয়। কিন্তু এর পরে আরেকটি মিটিং হয়েছিল। সেখানে মেসভাড়ার ২৫ শতাংশ ছাড়ের আলাপ আলোচনা হয়েছে। জানতে পেরেছি সেই ২৫ শতাংশও তারা মওকুফ করছেন না।

তিনি বলেন, যেহেতু ওই মিটিংয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই আমরা ওই সভায় মেসভাড়ার ২৫ শতাংশ ছাড়ের বিষয়টি মানি না। আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে বাড়ি মালিকরা ৬০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্তে না পৌঁছালে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এছাড়া বাড়ি মালিকরা যাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মূল ভাড়ার ৪০ শতাংশ নেন এমন দাবিতে শিগগিরিই জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মেসভাড়া মওকুফ নিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তহে জেলা প্রশাসন, ছাত্রপ্রতিনিধি ও বাড়ির মালিকদের মধ্যে ত্রি-পাক্ষিক বৈঠক হয়। যশোরের সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে করোনা দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় বাড়ি মালিকরা ভাড়ার ৬০ শতাংশ ছাড় দিতে রাজিও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাড়ির মালিকরা তাদের সিদ্ধান্ত বদল করে শিক্ষার্থীদের কাছে ভাড়ার পুরোটার দিতে চাপ দিতে থাকেন। এর ফলে ভাড়া আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বাড়ির মালিকরা দ্বন্দে¦ জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে তখন বাড়ির মালিকদের কারোর কারোর বিরুদ্ধে ভাড়ার জন্য তাদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সেই সাথে মেস থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, বইপত্র ও কাপড়চোপড় বাইরে ফেলে দেওয়ার মতন অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে মে মাসের শেষ দিকে আবারও বাড়ি মালিকদের সাথে ফের বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন। সেখানে ভাড়ার ২৫ শতাংশ ছাড় দিতে রাজি হন বাড়ি মালিকরা।
কিন্তু আবারও ভাড়ায় ছাড় দেওয়া নিয়ে গড়িমশি চলছে। বাড়িওয়ালারা মেসভাড়ার পুরোটায় আদায় করছেন। একদমই কোন ছাড় দিচ্ছে না। ফলে এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আর পরিস্থিতি বলেছে, এই অসন্তোষ থেকে ছাত্ররা আন্দোলনেও নামতে পারে।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পলাশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, করোনা সংকটের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীদের পরিবার আর্থিক সংকটের মধ্যে আছে। এমন অবস্থায় তাদের কাছ থেকে ভাড়া পুরোপুরি আদায় অমানবিক। ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাড়ি মালিকরা ৬০ শতাংশ ছাড় দিয়ে মূল ভাড়ার ৪০ শতাংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা সেটি করছেন না। শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে ভাড়ার পুরোটায় আদায় করছেন। যেটি খুবই অমানবিক। তিনি বলেন, বাড়িমালিকদের মূল ভাড়ার ৪০ শতাংশ নিতে বাধ্য করতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।