যশোর শহরে ফের বেড়েছে যানচলাচলে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত: 12:09 PM, June 12, 2020

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর যশোর শহরে ফের বেড়েছে যানচলাচলে বিশৃঙ্খলা। কড়াকড়ি শিথিল থাকায় নিয়ম মেনে পথ চলছে না চালকরা। নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড বা স্টপেজ না থাকায় যত্রতত্র থামিয়ে ইজিবাইকে যাত্রী ওঠানো নামানো চলছে। একইসাথে বিধিনিষেধ না মেনে দিনের বেলাতেও শহরে দেদারছে ভারী যানবাহন ঢুকছে। রাস্তাজুড়ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পার্কিং করে মালামাল উঠানো নামানোও চলছে। ফলে শহরে অন্যান্য যান ও জনচলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাতসহ অহরহ যানজট বাধছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে যশোর পৌরসভা। শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে চেকপয়েন্ট বসিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সম্প্রতি নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ায় শহরে অহরহ বড় ও ভারী যানবাহন প্রবেশ করছে।
শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশ ও চলাচলের ব্যাপারে সময়সীমা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। নির্ধারিত সময় ব্যতিরেকে শহরে ভারী যান প্রবেশ পুরোপুরি নিষেধ। কিন্তু এসব নিয়মের কোনোটাই মানছেন না যানচালকরা। এমনকি এসব যানচলাচলে এখন কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। যার জন্য শহরে যখন খুশি তখন বড় বড় ট্রাক কাভার্ডভ্যান ঢুকছে। এতে শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে শুধু এমনটিই নয়; নতুন নতুন রাস্তাগুলো ভারী যানের চাপে নাজুক হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকদিন ধরে শহরের মূল অংশ দড়াটানা, গাড়িখানা রোড, চৌরাস্তা, আরএন রোড, রেলরোড, পাইপপট্টি এলাকায় দিনভর যানজট লেগেই থাকছে। বিশেষ করে দিনের প্রথমভাগে সকালের দিকে এসব এলাকায় যানজট তীব্র আকার নেয়। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিনই বেলা দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত পাইপপট্টি রোডে কাভার্ডভ্যান ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড আনলোড চলে। যার ফলে এই রাস্তা দিয়ে রিকসা, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচলের সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যানজট বাঁধে। জনচলাচলও বিঘিœত হয়। এখানটায় একবার যানজট সৃষ্টি হলে সেটি পাইপপট্টির মোড় থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। সেই জট ছাড়াতেও অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে এমন যানজট লেগেই থাকে। একই রকম দৃশ্য দেখা যায় গাড়িখানা রোড, চৌরাস্তা, আরএন রোডেও।
শহরে নির্ধারিত সময়ের বাইরে ভারী যানবাহন প্রবেশ নিয়ে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের বাইরে ভারী যানবাহন যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তৎপরতা বাড়ানো হবে। এটি নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারির ইঙ্গিত দেন তিনি।