রাজীবপুরে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

রাজীবপুর(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কোদালকাটি ইউনিয়নের দূর্গম চর শংকর মাধবপুর।এই গ্রামের বিলপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ একাব্বর মুন্সি(৮০)।বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন বেশ কয়েক বছর হলো। ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারিয়ে অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে দিনযাপন করছেন এই বৃদ্ধ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফাউন্ডেশন’এর পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলাম লাল যখন তার বাড়িতে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির সেই উপহার পেয়ে তার চোখে আনন্দ অশ্রু।

একই ইউনিয়নের পশ্চিমের চরের ইউসুফ আলী(৬০) দিনমজুরি করে সংসার চলতো তার। স্ত্রী হাজেরা বেগম বেগম ও দুই সন্তান সহ ৪ জনের সংসার। চলমান লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়েছেন তিনি।ছেলে ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করলেও করোনাকালে কাজ হারিয়ে ঘরে বসে। হাজের বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় করতো তা দিয়েই কোনমতে জীবনধারণ করছিলো পরিবারটি।অসহায় এই পরিবারটিকেও উপহার দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। দূর্যোগময় এই সময়ে খাদ্য সহায়তা পেয়ে পরিবারের সবার মাঝে খুশির ঝিলিক।

রাজীবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন চরের এমন শতাধিক দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে আজ রবিবার(৯ মে) খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা খাদ্য সামগ্রীতে ছিল চাল, ডাল, আলু, সেমাই, লাচ্ছা, গুড়া দুধ, চিনি, ছোলা, তেল ও সাবান।

উপহার পাওয়া একাব্বর মুন্সী বলেন, লকডাউন আবার রোজা আসায় খুব কষ্ট কইরা রোজা রাখছি এবার রোজগার না থাকায় বাজারও ঠিকমত করবার পারি নাই।ঈদের আগে এগুলা পাইয়া আমার যে কি উপকার হইল তা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানে।উপহার দেওয়া জন্য তিনি এই সংগঠনের সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন।

উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চরের প্রতিবন্ধী, বিধবা, ভিক্ষুক, দিনমজুর, গৃহকর্মীসহ শতাধিক অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে দিনব্যাপী এসব উপহার সমগ্রী বিতরণ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।

‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফাউন্ডেশনের’ প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন,মানুষের বিপদে যদি আমরা পাশে না দাঁড়াই তাহলে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটবে।’চরের মানুষগুলো সারা বছরই কষ্টে থাকে। অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে না রোজা পালন করছে। আমরা চেষ্টা করেছি সমান্য কিছু উপহার এসব মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালীন এই দূর্যোগে রমজানে অনেকের পক্ষেই খাওয়া খরচটুকুও করা সম্ভব হবে না।তাদের পক্ষে ঈদের খরচ করা অসম্ভব। তাই আমরা এই সামান্য ঈদ উপহার তুলে দিয়ে তাদের সাথে ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নেয়ার চেষ্টা করেছি বলেও জানান তিনি।