রোজা নষ্ট হয় যেসব কারনে

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২২

প্রতি বছর রমজান মাসে প্রাপ্ত বয়ষ্ক সুস্থ মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছে, যাতে তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো :

এক. ইচ্ছাকৃত স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস : রমজানে রোজা রেখে দিনে স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।

হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর নিকট এসে বলল, আমি রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেছি। রাসুল (সা.) তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৭০৯; তিরমিজি, হাদিস নং : ৭২৪)

দুই. ইচ্ছাকৃত পানাহার : রোজা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রমজানে রোজা রেখে (ইচ্ছাকৃতভাবে) পানাহার করল। তখন রাসুলু (সা.) তাকে একটি দাস মুক্ত করা বা দুই মাস রোজা রাখা বা ষাটজন মিসকিনকে খাবার দেওয়ার আদেশ করলেন। (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস নং : ২/১৯১)

ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘রমজানে রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে এর বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে দিনে সহবাসকারীর বিধানের মতো হবে। ’ অর্থাৎ তাকে কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। (মাবসুত, পৃষ্ঠা : ৩/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬)

তিন. ধূমপান করা : বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। (রদ্দুল মুহতার, পৃষ্ঠা : ৩/৩৮৫)

চার. সূর্যোদয়ের পর আহার : সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানার পরও আযান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খানাপিনা করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত থাকলে কাযা-কাফফারা উভয়ই জরুরি হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭; মাআরিফুল কুরআন, পৃষ্ঠা : ১/৪৫৪-৪৫৫)