শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেন করোনার মিলন মেলা, নেই স্বাস্থ্যবিধীর বালায়

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

জাহিদ হাসান|

যশোর জেলার শার্শা উপজেলা সাব-রেজ্রিস্ট্রার অফিসে মানুষের মাঝে নেই কোন সামাজিক দূরত্ব, মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি এতে আতঙ্কিত উপজেলার জনগন।

যশোর জেলার সকল উপজেলা গুলো কঠোর লকডাউন থাকলেও শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের চিত্র রীতিমত চোখ কপালে উঠার উপক্রম।

২৩শে জুন বুধবার সরোজমিনে শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এক জনগণের হাট, সকলে মিলে করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে যেন জমি ক্রয় বিক্রয় এর এক মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। ২০ জন মিলে ১জন দলিল লেখককে ঘিরে রেখেছে এযেন মেলার মাঠে সাপখেলা দেখার মত। কিছু লোকের মুখে মাস্ক থাকলেও বেশির ভাগ মানুষের মাস্ক মুখের নিচে, হাতে এবং কিছু লোক পকেটে নিয়ে ঘুরছেন।

সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রাস্তার অপজিটে আছে মেলায় আগত লোকজনের জন্য খাবার হোটেল। সেখানে হোটেল বয় মাস্কবিহীন রাস্তার এপাশে এসে জনগণকে খাবার খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘুরেও দেখা গেল একই চিত্র। সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং সামাজিক দূরত্বকে কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে গায়ে গা লাগিয়ে চলছে মাস্ক বিহীন দলিল লেখা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গেটেও মানুষের এত ভির যে পা রাখার জায়গা নেই। সকলে অফিসের ভিতরে ঢোকার জন্য চাতক পাখির মত চেয়ে আছে এযেন মেলায় রথ দেখার অধীর আগ্রহ।

অথচ খোদ যশোর জেলায় গত ২২শে মার্চ ৫২৭ টি নমুনার মধ্যে ২৫৩টি নমুনা পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পজিটিভ, ১০ জনের মৃত্যূ খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে শার্শা উপজেলায় আক্রান্তের হার অনেক বেশি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আমলে না নিলে যেকোন সময়ে শার্শা কোভিড-১৯ হট-স্পটে পরিণত হতে পারে।

শার্শার এক সচেতন নাগরিক বলেন, যেখানে শার্শা উপজেলা সহ পুরো জেলা লকডাউন সেখানে সাব-রেজিস্ট্রি খোলা রেখে প্রশাসন কি ফয়দা পাচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে সাব রেজ্রিস্ট্রারের ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে শার্শা সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, আসলে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি আমার জানা নেই তবে আমি জানলাম এবং আমি এবিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবো। যেহেতু আমাদের জেলা এবং উপজেলায় এখানে কঠোর লকডাউন চলছে সেহেতু আমি আমার উদ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো এটা বন্ধ রাখার জন্য।