শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীরা ভীষণ খুশি

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

দীর্ঘ দেড় বছর করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশনায় খুলেছে । সারাদেশের মতো খাগড়াছড়িতেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এখন খুশির জোয়ার লক্ষ করা যাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান গেইটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছিঁটিয়ে দিচ্ছেন,পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করাচ্ছি।

শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনায় আজ ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা।এর ফলে প্রাণ ফিরে এসেছে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।প্রথম দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শ্রেণীকক্ষের যেন নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।ফিরে এসেছে স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণের কোলাহল।

এসময় আরো দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও নেমে পড়েছেন নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে।তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোভিড-১৯ প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা করছেন,কেউ হ্যান্ডস্যানিটাইজার কেউবা শ্রেণিকক্ষে। দীর্ঘ দিনপর প্রাণের প্রতিষ্ঠান খোলায় এতে খুশি শিক্ষার্থীও শিক্ষকেরা।

খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমা জানান , আমরা নিজেরাই শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানবো, সকল শিক্ষার্থী, কর্মচারীরাও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তা কঠোর নজরদারিতে আছে।আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৬দিন দুইটি বিষয়ের ক্লাস চলবে।অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরাও রুটিন মাফিক ক্লাস করতে পারবে নিয়ম অনুযায়ী।তিনি আরো বলেন,আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীরা দারুন খুশি।

এসময় খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তৃণা চাকমা বলেন,আমরা এই দিনটির জন্য দীর্ঘ ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে।আজ অপেক্ষার পালার অবসান হয়েছে।শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা আবার একত্র হচ্ছি।তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যা যা করা উচিত সবকিছু নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করাচ্ছি।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মৃনালেন্দু চাকমা বলেন,দীর্ঘ ১৮ মাস আমরা সরাসরি পাঠদান থেকে বিরত ছিলাম।দেড় বছর পরে আমরা আবার সরাসরি পাঠদানে ফিরলাম।শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি ক্লাস করতে পেরে আমরা ভীষণ খুশি।