শিরোপা দৌড়ে আবারো পিছিয়ে পড়লো বার্সেলোনা

প্রকাশিত: 9:48 AM, June 28, 2020

কদিন ধরে প্রতি ম্যাচেই ক্যারিয়ারের ৭০০তম গোলের সন্ধানে নামছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু প্রতিদিনই সে অপেক্ষা আরেকটু দীর্ঘ হচ্ছে। আজও বার্সেলোনার দুই গোলে অবদান রেখেও নিজে গোল পাননি। তবে মেসির ব্যক্তিগত হতাশা দলীয় হতাশার তুলনায় কিছুই না। সেল্টা ভিগোর মাঠ থেকে জয় না নিয়ে ফেরার অভ্যাসটা আরও এক বছর দীর্ঘ হলো বার্সার। ২০১৫ সালের পর থেকে বালাইদোসে জয় পাচ্ছে না বার্সা। আজও ২-২ গোলের ড্র মেনে নিয়েছে তারা। এই ড্রতে লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে পরিস্কার ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল বার্সেলোনা।

প্রথম ১০ মিনিটেই দুবার এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। পিকের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরেছে ৭ মিনিটেই। দশ মিনিটেও আরেকটি আক্রমণ থেকে গোল করার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু বিভ্রান্ত সেল্টা ভিগোর রক্ষণের উপহার দেওয়া সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। প্রতি আক্রমণে ওঠা সেল্টা ভিগোও দুটো সুযোগ হাতছাড়া করেছে ফিওদর স্মোলভের সুবাদে। একবার দারুণ অবস্থানে থাকা ইয়াগো আসপাসকে পাস না দিয়ে শট নিয়েছিলেন এই রাশিয়ান। আরেকবার শট নেওয়ার পর মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনের হাতে লেগে পোস্টে লাগে বল।

এরই ফাঁকে ২০ মিনিটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দিয়েছেন মেসি। না, গোলটা মেসির নয়, লুইস সুয়ারেজেরই। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের হেডটাও চমৎকার ছিল। কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিকটাই কাজটা সহজ করে দিয়েছে। ফ্রি কিক থেকে মেসির গোল আটকানোর ভাবনায় ব্যস্ত সেল্টা রক্ষণ ছোট বক্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুয়ারেজকে পাহারা দিতে ভুলেই গিয়েছিল।

এরপরও আক্রমণের তীব্রতা কমেনি বার্সেলোনার। মাঝমাঠে নিষিদ্ধ বুসকেটস ও জুভেন্টাসে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আর্থুরের পরিবর্তে রিকি পুচ ও ইভান রাকিতিচের উপস্থিতি বার্সেলোনার খেলায় বাড়তি গতি এনে দিয়েছিল। ৪০ মিনিটে সেল্টার রক্ষণকে দর্শক বানিয়ে গোলটা পেয়েই যাচ্ছিলেন মেসি। কিন্তু পুরো কাজটা ঠিকভাবে করে শেষটা পূর্ণতা দিতে পারেননি। চমৎকার ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে মানানসই শট নিতে পারেননি বলে ব্যবধান বাড়েনি বার্সার।

বিরতির পরই ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকেরা। বার্সা মিডফিল্ডের কাছ থেকে এক সতীর্থ বল কেড়ে নেওয়ার পর সেটা পান সেল্টা অধিনায়ক আসপাস, তাঁর থ্রু পাস ধরে ছুট লাগান ওকে ইয়োকুস্লু। টের স্টেগেনকে এক দিকে টেনে এনে পাস দেন স্মোলভকে। ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ভুল হয়নি এই স্ট্রাইকারের।

৪৯ মিনিটে ম্যাচে এই গোলে সমতা ফেরার পর দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দল। ৬৭ মিনিটে বার্সা এগিয়ে গিয়েছে প্রতিপক্ষের ভুলে। বার্সার আক্রমণ আটকে ফেলেও বল ক্লিয়ার করতে পারেনি সেল্টার রক্ষণ। উলটো বল চলে আসে মেসির পায়ে। মেসির পা ঘুরে বল সুয়ারেজের কাছে পৌছাতেই আবার এগিয়ে গেল বার্সেলোনা।

ম্যাচ যখন এ স্কোর লাইনেই শেষ হবে মনে হচ্ছিল, বল নিজেদের দখলে রেখে সময় নস্ট করার জন্য পুচকে তুলে নিয়ে আর্থুরকেও নামান কোচ সেতিয়েন। তখনই চমক! ৮৭ মিনিটে সাবেক বার্সেলোনা খেলোয়াড় রাফিনহাকে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে বসেন পিকে। ফ্রি কিক নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন বার্সা একাডেমির আরেক অবদান ডেনিস সুয়ারেজ। এ কারণে বার্সার মানব দেয়ালটা ডান পোস্ট পর্যন্ত আড়াল করেই খুশি ছিল। কিন্তু বাঁ পায়ের আসপাসের বাঁকানো শট মানবদেয়ালের বাঁ পাশ ঘুরে দারুণ এক বাঁক নিয়ে পোস্ট ঘেষে ঠিকই আশ্রয় নিয়েছে জালে। নিজের ডিফেন্ডারদের কারণে বলই দেখতে পাননি বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেন।

৯৪ মিনিটে ৩-২ করেই ফেলেছিলেন বার্সেলোনার আরেক সাবেক খেলোয়াড় নোলিতো। সেই ডেনিসের পাস থেকে নেওয়া শটটা লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন টের স্টেগেন।
এক ম্যাচ বেশি খেলে রিয়ালের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে আছে বার্সেলোনা। ৩২ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৬৯, ৩১ ম্যাচে রিয়ালের ৬৮। লিগে দুদলের পয়েন্ট সমতা থাকলে ব্যবধান হয় মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবে, তাতে এগিয়ে আছে রিয়ালই।