শ্যামনগরে ভূমিদস্যদের অস্ত্রের আঘাতে প্রতিবন্ধী সহ আহত দুই আটক এক

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৩

এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ

শ্যামনগরে ভূমিদস্যদের অস্ত্রের আঘাতে প্রতিবন্ধী সদর ইউনিয়নের চিংড়াখালী গ্রামের মৃত গহর আলী গাজীর ছেলে জামের আলী গাজী (৫৭)সহ আহত দুই থানায় মামলা আটক এক।
এঘটনায় প্রতিবন্ধী জামের আলি বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় মামলা করেছে। আসামিরা হলেন, একই গ্রামের মৃত দিনার আলী সরদার ছেলে রমজান সরদার (৬০)মৃত মান্দার গাজীর ছেলে গোলাম গাজী (৫৫) মৃত আতিয়ার গাজীর ছেলে
ফজলু গাজী (২৭) মোসলেম আলীর ছেলে আঃ রহমান (২৮) মন্তেজ সরদারের ছেলে সালাম সরদার (৩২) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,শারিরীক প্রতিবন্ধী জামের আলীর দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে।
আসামিরা ভূমিদস্যু, জবর দখলকারী, দাঙ্গাবাজ, পরসম্পদলোভী, দুর্দান্ত ও দুর্ধর্ষ, গুন্ডা,গাঠিয়াল এবং হিংস্র প্রকৃতির ব্যক্তিবর্গ। আসামীদের বাড়ী প্রতিবন্ধী জামের আলীর বাড়ী একই সীমানায় হাওয়ায় আসামিরা জামের আলীর সম্পত্তি দখল দখলচ্যুৎ করার জন্য প্রায় সময় জামের আলী সহ তার পরিবারের অন্যান্যদের বিভিন্ন প্রকার খুন জখমের ভয়ভীতি সহ হুমকি ধামকি প্রদান করে থাকে।
ইতি পূর্বে উপরোক্ত আসামীগণ সহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন আমার বসত ভিটাবাড়ীর দখলীয় সম্পত্তির চারিপাশ ঘেরা বেড়া দিয়ে এবং যাতায়াতের পথ বন্ধ করে জবর দখল করে দেয়। এলাকার গন্যমান্য লোকজন বিষয়টি নিরসন করার জন্য বসাবসি করে আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনদের যাতায়াতের পথ অবমুক্ত করে দেয়।
সোমবার ১২ জুন সকাল অনুমান ১১টায় আসামীগণ পরস্পর যোগ সাজসে পূর্ব- পরিকল্পিতভাবে হাতে রামদা,লোহার রড,শাবল,লোহার জিআই পাইপ, লাঠি-সোঠা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বসত বাড়ীর পূর্ব-উত্তর পার্শ্বের যাতায়াতের রাস্তায় এসে রাস্তা বন্ধ করে দিতে থাকে।
এসময় প্রতিবন্ধী জামের আলী সেখানে যেয়ে আসামীদের বাধা নিষেধ করলে পরস্পর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ১নং আসামীর হুকুমে আসামীগণ আমাকে লোহার রড,শাবল, জিআই পাইপ লাঠি দ্বারা মারপিট করে শরীরের বিভিন্নস্থানে কালশীরা রক্ত জমাট জখম করে। একপর্যায়ে ১নং আসামী তার হাতে থাকা রাম দা দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে জামের আলীর মাথায় আঘাত করলে আমি বাম হাত দ্বারা ঠেকানোর ফলে উক্ত আঘাত আমার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের মাঝ বরাবরে লেগে হাড় কাটা গুরুত্বর জখম সহ আঙুলের অধাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় আমি গুরুত্বর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকি। ২নং আসামী তার হাতে থাকা লোহার শাবল দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় আঘাত করলে আমি সরে যাওয়াতে ঐ আঘাত আমার মেরুদন্ডে লেগে হাড় ভাঙ্গা গুরুত্বর জখম হই। অন্যান্য আসামীগণ লাঠি, লোহার রড, জিআই পাইপ দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ী মারপিট করে শরিরের বিভিন্নস্থানে জখম করে। এসময় আমার স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৪৫) ঠেকাতে আসা মাত্রই ১নং আসামীর পুনঃ হুকুমে সে সহ সকল আসামীগণ তাকেও যেযার মত মারপিট করে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে। ৩নং আসামী লোহার রডদ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাত করলে সে ডান হাতদ্বারা ঠেকানোর ফলে ঐ আঘাত তার ডান হাতের পাকুড়ায় লেগে হাড়ভাঙ্গা গুরুত্বর জখম হয়ে পড়ে যায়। সাথে সাথে ৪নং আসামী শাবলদ্বারা ও ৩নং আসামী লোহার রডদ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রীকে মারপিট করে। ফলে স্ত্রীর মেরুদন্ডে হাড়ভাঙ্গা গুরুত্বর জখম সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফোলা জখম হয়। আসামীদের মারপিট ও টানাহেঁচড়ার ফলে আমার স্ত্রীর পরনে থাকা কাপড় চোপড় ছিড়ে বেসামাল ও বেআব্রু হয়ে শ্লীলতাহানী ঘটে। আমাদের ডাক শীতকালে শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে আসামিগণ দ্রুত ঘটনা স্থান থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাদেরকে তুলে দ্রুত শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এজার পেয়ে চিংড়িখালি গ্রামের মন্তেজ সরদারের ছেলে আব্দুর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছি অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের কাজ পরক্রিয়াধীন আছে।