সময়ের টানে হারানো মানুষ

Abrar Abrar

Atik

প্রকাশিত: 3:55 PM, December 15, 2020

সেমিনার রুম।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

উপস্থাপক ঘোষণা দিলে একজন মধ্যবয়সী সুন্দরী বক্তা মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালো।। সুন্দর অনর্গল বলে যাচ্ছে তার নতুন আবিষ্কার করা অপারেশন সম্পর্কে।সামনে শ দুয়ের মত স্রোতা।তাও আবার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।
আসলে এটা একটা মেডিকেল প্রোগ্রাম।
সামনে কথা বলছেন ডাঃরুবা।

সামনের সারিতে বসা মানুষগুলোকেই শুধু ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে।পিছনেরগুলো ঝাপসা।হয়ত দৃষ্টি কাজ করছে না কিংবা দেখতে ইচ্ছে করছে না।নাকি আরো বেশি কিছু।সামনের সারির একটা লোকের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি আটকে গেলো।মাথায় টাক পড়ছে,মুখে বয়সের ছাপ।কেমন যেন পরিচিত লাগছে!!!
না কোনভাবেই মনে করতে পারছে না ডাঃরুবা।

বক্তৃতা শেষ করে কিছু থিসিস চেক করে গাড়িতে উঠে বসল।গন্তব্য বাসায়।
বাসায় এসে মেয়ে অর্থির সাথে কিছু সময় কাটালো।স্বামী এখনও অফিসে।
রাতের খাবার শেষে যখন ঘুমাতে যাবে তখন সারাদিনের কোন কাজ অসম্পূর্ণ আছে কি না ভেবে দেখল।না সবই হইছে আজকে।তখনই ঐ প্রোগ্রামে প্রথম সারির পরিচিত পরিচিত লোকটিকে মনে পড়ল।
কে হতে পারে??
আগে কি কোথাও দেখা হয়েছিলো??

মোবাইলটা নিয়ে কতৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলো আজকের প্রোগ্রামে কারা কারা আসছিলো নাম গুলো দেয়া যাবে কি না??কিছুক্ষন পরেই মেইলে নামগুলো চলে আসলো।
লিস্টে পরিচিত কারো না দেখলো না।।
কি আর করা!!!
আরো একটু ভাবতে লাগলো।
বারান্দায় কফি হাতে নিয়ে বসলো।
হালকা শীতল বাতাস।
চুলগুলো উড়ছে।
বাসার সামনে লনে নীল রংয়ের কি যেন একটা ফুল।
কফিতে চুমুক দিয়ে ভাবতে লাগলো কে হতে পারে!!
জীবনের ব্যাস্ততা কিংবা স্বপ্নটানে অনেকদূরে ফেলে এসেছে অনেক কিছু।
কত কাছের মানুষ।
কত ভালো বন্ধু হারিয়ে গেলো সময়ের সাথে।
অনেক আগের ফেসবুকের চ্যাটগুলো দেখে মনে হলো আতিক হতে পারে নাকি!!!
আতিক হলে তো আমাকে জানিয়ে আসতো আর লিস্টে নামও থাকতো।
কোনটাই তো নেই।

আতিক ডাঃরুবার বন্ধু ছিলো।
ছন্নছাড়া একটা ছেলে।
শান্তি খুঁজে বেড়ায় শহরের অলিতে গলিতে,রাতের আকাশে কিংবা সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে।
কোন এক অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ করার সুবাদে পরিচয়।
কয়েকদিনে বেশ ভালো একজন বন্ধু হয়ে উঠলো।
হয়তটা একটা সময় পছন্দও করতো।
কিম্তুু বাস্তবতা ভিন্ন ছিলো আর বন্ধুত্ব নষ্ট হতো বলে হয়ত কিছু চায় নি।
শুধু সবসময় যেন ভালো থাকে এটাই চাইতো।

এখন কেমন আছে আতিক?
১৫ বছর তো হয়ে গেলো।
কোন খবর নাই।
ভাবলো একটু খোঁজ নিয়ে দেখি।
ফোন বা মেইল ঘাটাঘাটি করেও কোন মাধ্যম পেলো না যোগাযোগ করতো।
রাতে আর ঘুম নষ্ট করতে চাইলো না।
পরদিন আগের কিছু বন্ধু বান্ধবের কাছে জানতে চাইলো আতিকের খবর।
কেউই তেমন জানে না।
সবাই জানাবে জানাবে বলছে।
যা হোক।।এছাড়া ডাঃ রুবার কাছে আর কিছু নাই।

সপ্তাহ খানেক পরে এক বন্ধুর ফোন।
আতিকের খবর পাওয়া গেছে।
নাম্বারটা নিলো।
পরদিন সময় করে ফোন দিলো।
কন্ঠ শুনেই আতিক বুঝে নিলো এটা রুবা।
আতিক একবার যাকে মনে রাখে কখনই ভুলে না।
চেহারা কিংবা ভয়েস।
১৫ বছর পর ফোন পেয়ে একটু অবাকই হলো আতিক।
১৫ বছরে আতিক অনেক মনে করতো।।কিন্তু কাউকে বলে নি।
রুবার একজন কলিগের থেকে খবর নিতো ভালো আছে কি না।
আতিক তো এটাই চাইতো।
কখনও কথা বলা দরকার মনে করতো না।
দুইজনেরই সময় স্বল্পতা নাকি দেখানো ব্যাস্ততা বুঝা যাচ্ছে না।
নাকি অন্য কিছু।
অতীতের কথা কেউই বলছে না।
সেই সুন্দর দিনগুলো।
যাক না হারিয়ে কিংবা একজনই মনে রাখুক।
যা লেখা নেই কোন ডাইরির পাতায়।