সান্তাহারে একের পর এক সরকারি জমি দখল করে যাচ্ছে আজমেরী গ্রুপ

Abrar Abrar

Atik

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল(আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বগুড়ার সান্তাহার শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রাকেশ সাহার বিরুদ্ধে সরকারি তিন দপ্তরের একের পর এক জায়গা দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি সান্তাহার শহরের মেইন রোডে তার আজাদ বেকারীর পিছনে রেলওয়ের প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে বহুতল মার্কেট ভবন নির্মান করছেন। এ ছাড়া শহরের কোচকুড়িপাড়া এলাকায় খাদ্য বিভাগের, কলাবাগান শিল্প এলাকায় রাস্তার পাশের ও খাড়িরপুল সরকারি কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে এবং ইন্দইলে সড়ক ও জনপথের প্রায় দুই একর পরিমান জলাধার ভরাট করে দখল করেছেন। শহরের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজমেরী গ্রুপের মালিক রাকেশ সাহা’র অব্যাহত দখলবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা না গ্রহন করায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, শহরের কলাবাগান শিল্প এলাকায় তার আজমেরী ফ্লাওয়ার, অয়েল, পোলট্রি ফিড, বিডি এগ্রোফুড, ডাল এবং সাইলো রোডের কোচকুড়ি পাড়া এলাকায় জুটমিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া খাড়িরপুলের দক্ষিণ পাশে ও ইন্দইলে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না করেই সড়কের পাশের জলাধার ভরাট করে দখল করে রেখেছেন। কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্তা ব্যক্তিদের যোগসাজস থাকার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসি। সওজ বিভাগ এর পূর্বে রাকেস সাহার কলাবাগান এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা অংশ একাধিকবার উচ্ছেদ করে। কিন্তু উচ্ছেদ ধরে রাখতে না পারায় ফের দখল করেছেন সেই জমি। সরেজমিন রাকেশ সাহার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, সান্তাহার শহরের কোচকুড়ি এলাকায় তিনি পাটের বস্তা তৈরীর জুটমিল নির্মান করছেন। তিনি ওই কারখানার সামনে সাইলোর প্রায় এক বিঘা পরিমান জলাধার দখল করেছেন। সেখানে বর্তমানে মাটি ভরাটের কাজ করছেন।

পৌরসভার ভিতরের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মানে পৌরসভার কোন নকশা অনুমোদন নেয়া হয় নি। সান্তাহার পৌরসভার প্রকৌশলী রেজাউল করিম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, রাকেস সাহার নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মানের জন্য পৌরসভার অনুমোদন নিয়েছেন। কিন্তু রেলওয়ের জমিতে স্থাপনা নির্মানের অনুমোদন দেয় নি পৌরসভা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, রাকেশ সাহা প্রচুর অর্থের মালিক হওয়ায় কারো তোয়াক্কা করেন না। তিনি চর দখলের মত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের জমি দখল করে চলেছেন। রেলওয়ের জমিতে বহুতল মার্কেট ভবন নির্মানের বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে ভূমি অফিসের কানুনগো মোঃ মহসীন আলী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সীমানা নির্ধারণ না করে নির্মান কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর পরও নির্মান কাজ করার দায়ে রাকেস সাহার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। খাদ্য বিভাগের জলাধার জমি দখল বিষয়ে সান্তাহার সাইলোর অধিক্ষক (সুপারিনটেনডেন্ট) ফয়জুল্লাহ খান শিবলী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের তিন দপ্তরের জলাধার জমি দখল বিষয়ে আজমেরী গ্রুপের মালিক রাকেশ সাহার মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। রাকেস সাহার ম্যানেজার আকরাম হোসেন বলেন, তার মালিক অপরিচিত কারো ফোন ধরেন না।