সার্বিকভাবে বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম;কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী,জাতীয় শিশু দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী(১৭ই মার্চ-২৩মার্চ) পর্যন্ত ৭দিনব্যাপী মেলার শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(১৭ই মার্চ) বিকালের দিকে জেলা টাউন হল প্রাঙ্গনে ৭দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এ সময় জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আশফাক হোসেন।

আলোচনা সভায় প্রতিভা ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন,স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়ে তার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ভাষণের অন্য নাম ‘বজ্রকণ্ঠ’। সার্বিকভাবে বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম, যে আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বিশ্বের বুকে জন্ম দিয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।তার ত্যাগ ও সংগ্রাম আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হয়ে ধরা দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের সামনে। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ, মোহ, পদ-পদবির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের বিশ্বাসে অটল থেকেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব নয়, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তার লক্ষ্য। তিনি কখনো ক্ষমতার পেছনে ছোটেননি।ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।আমাদরেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের যেকোন সংকট মোকাবেলা করতে হবে।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন,১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যায় শুধুমাত্র ঢাকাতেই ৬ থেকে ৭ হাজার সাধারণ মানুষ সেই রাতে প্রাণ হারায়। বাংলাদেশে এই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস নামে পরিচিত।সেই দিন রাত ১২ টার পর (২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করায় ১৯৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশ ২৬শে মার্চ কে “স্বাধীনতা দিবস” হিসাবে পালন করে আসছে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। এই দিনটি ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ বিজয় দিবস হিসাবে পালন করছে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধে বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্ণ হয়। তাই স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২১ সালকে “সুবর্ণজয়ন্তী” হিসাবে পালন করা হয়।
২০০৮ সালের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগতাদের নির্বাচনী ইস্তেহারের মধ্যে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে “রূপকল্প ২০২১” ঘোষণা করে, যেখানে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল, ডিজিটাল ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় দেয়া হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ,বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন বিএলএফ অধিনায়ক রনবিক্রম ত্রিপুরা,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু,পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় টাস্কফোর্স’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা,জেলা’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমা,জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান, জেলা’র জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা,খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(অব: প্রাপ্ত)ত্রিনা চাকমা,জেলা প্রতিবন্ধী অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান,জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি সনাকের সভাপতি প্রফেসর ড. বোধিস্বত্ব দেওয়ান,সনাকের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আবদুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।