সাহিত্য একটা জাতি এবং মানুষের জন্য টিকে থাকার দলিল;পাজেপ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“সাহিত্য হোক সকল অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতিয়ার” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক বর্ণাঢ্য আয়োজনে দশম(১০)বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।শনিবার(১৫জানুয়ারি)সকালে জেলা শহরের অন্যতম ভিন্নধারার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ১০বর্ষপূর্তি ও সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে “গিরিধারা’সংখ্যা-১০ নামক সাহিত্য সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।এ সময় জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রফেসর বোধিস্বত্ব দেওয়ান’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে সাহিত্যিক ও গবেষক কবি হাফিজ রশিদ খান।

অনুষ্ঠানে ইউসুফ আদনান’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ও জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

এ সময় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন,১৯৭১সালের ১৪ই ডিসেম্বর আমরা যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক সেই মুহূর্তে এদেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা হয়।এরমধ্যে ছিল শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, লেখক, ডাক্তারসহ যেখানে যাকে পেয়েছে হত্যা করেছে। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে শুনে ওরা আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে যদি মেধাশূন্য করা যায়, তাহলে আমাদের দেশ পঙ্গু হয়ে যাবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা মহান অবদান রেখেছেন।

তিনি বলেন,সাহিত্য একটা জাতির জন্য এবং মানুষের জন্য টিকে থাকার দলিল।ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ দেশে যত বই-পুস্তক ছাপানো হয়েছে, নাটক-নাটিকা প্রদর্শিত হয়েছে, যত সংগীত রচয়িত হয়েছে; এক কথায় বলতে গেলে শিল্প-কর্মে যে অগ্রগতি হয়েছে; তাই আমাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিকভিত্তিক জাতিসত্তাকে জনগণের কাছে বোধগম্য করে তুলেছে।আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করেই জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠিত। আমরা সকলেই এদেশের নাগরিক।এদেশের যে চেতনায় আমরা উদ্বুদ্ধ তার উৎস ভাষা ও সংস্কৃতি। এই জাতীয়তাবোধের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বাংলার জয়গান তিনি গেয়ে গেছেন। বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথের সংগীতই আমাদের জাতীয় সংগীত।

অন্যান্য বক্তারা বলেন,এই কবি-সাহিত্যিকের মিলন মেলায় আগত গুণীজনেরা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চ্চার মাধ্যমেই একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ে ওঠার কথা বলেন। তারা বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির স্বাদ পেলে দেশ জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ মুক্ত থাকে।কবিতা তারাই লিখতে পারেন যারা জীবনের চলার গতিতে জীবনটাকে আবিস্কার করেন।

সাহিত্য সম্মেলনে ৫জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।৫জন সাহিত্য সম্মাননায় যারা ভূষিত হয়েছেন,তারা হলেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক,গবেষক ও লেখক প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমা,প্রাবন্ধিক লেখক,গবেষক ও কবি ধর্মরাজ বড়ুয়া,লেখক ও গবেষক অংসুই মারমা,গীতিকার ও নাট্যকার মর্তুজা পলাশ।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা,চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র,বাংলাদেশ টেলিভিশনের কন্ঠ শিল্পী আবুল কাশেম,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক জিতেন চাকমা,খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পরিবার কল্যাণ সহকারী কর্মকর্তা শাহনাজ সুলতানা,কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা চাকমা,খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুই চিং থুই মারমা,উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমন ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি সনাকের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ আবদুর রহমান,সনাক সদস্য মোঃ জহুরুল আলম, জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র সেতু এমএলই প্রকল্প সমন্বয়ক বিনোদন ত্রিপুরাসহ আরো অনেকে।