সেন্টমার্টিনে যাত্রীবাহী জাহাজ বন্ধ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল

প্রকাশিত: ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২২

২ এপ্রিল থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।অক্টোবর পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে। সাধারণত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকে বলে সাধারণত মার্চের ৩০ তারিখের মধ্যে সেন্টমার্টিন রুটে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার কিছু পর্যটক সেন্টমার্টিনে ২ এপ্রিল পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে সময় দুদিন বাড়ানো হয়েছে।

তবে জাহাজ চলাচল সময়সীমা কম হওয়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে।২৮ মার্চ বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী। এছাড়া ২ এপ্রিল সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার সময় জাহাজগুলো দ্বীপের আবর্জনা বোঝাই করে টেকনাফে আনা হবে। এরপর এসব আবর্জনা টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে। পাশারপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য লোকজনের কাছে বিক্রি করা হবে। এদিকে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার খবরে দ্বীপে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এই বিষয়ে সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, জাহাজ চলাচল বন্ধের মৌসুম বলে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ৩০ মার্চ পর্যন্ত জাহাজ চলাচল করতে পারে। এরপর দীর্ঘ ৭/৮ মাস পর উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, ২ এপ্রিল পর্যন্ত কিছু পর্যটক সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন করবেন বলে তাদের আনার জন্য ওইদিন পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ন্যায় পর্যটন মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ও বর্ষা মৌসুম-দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকে বলে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসায় তাদের জীবন-জীবিকা চলে। কিন্তু আগামী ২ এপ্রিল থেকে দ্বীপে পর্যটকের আগমন বন্ধ হয়ে যাবে জেনে এরই মধ্যে ৩০টির বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে।