বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নিবার্চন আগামী ১৬ই মার্চ

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২২

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন বুধবার (১৬ মার্চ)। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী এবং আটটি শাখা কমিটির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে এবং সেই দিনেই ফলাফল ঘোষণা এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের পদ বণ্টনও করা হবে।

নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ৭টি পদে ‘সমমনা’ এবং ‘মেম্বারস ভয়েস’ নামের দুটি প্যানেলে ১৪ জন্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সিএন্ডসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী সুব্রত সরকার।

বিসিএসের প্রতিটি শাখা কমিটিতে পদ রয়েছে সাতটি করে। নির্বাচনে বরিশাল শাখায় ১৪ জন, কুমিল্লায় সাত জন, চট্টগ্রামে নয় জন, যশোরে ১৬ জন, খুলনায় ১৪ জন, ময়মনসিংহে সাত জন, রাজশাহীতে সাত জন ও সিলেটে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

‘সমমনা’ প্যানেলের দলনেতা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম নির্বাচনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব সদস্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব। আমাদের প্রথম কাজ হবে, বিসিএস সচিবালয়কে শক্তিশালী করা। সদস্যদের উন্নয়নে দক্ষ জনবল নিয়োগের পাশাপাশি সচিবালয়ের সব কাজ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। কম্পিউটার পণ্যের এমআরপি চালুর পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবার নীতিমালাও হালনাগাদ করা হবে। ক্রেতা–বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় নকল ও মানহীন পণ্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। সদস্যদের প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের নিয়ে কম্পিউটার সমিতিতে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হবে।’

মেম্বারস ভয়েস প্যানেলের দলনেতা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, ‘ক্রেতা–বিক্রেতার সুবিধার জন্য পণ্যের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক করব আমরা। এটি চালু হলে ক্রেতারা পণ্য কেনার সময় নিজেরাই সেই পণ্যের দাম জানতে পারবেন। ডিলার বা বিক্রেতারাও উপকৃত হবেন। অনলাইনে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রিতেও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাধ্যতামূলক করা হবে। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের অনলাইনে পণ্য বিক্রির সুযোগ দিতে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন নতুন ওয়েবসাইট চালু করব। ফলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে চালু থাকা প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রয়োত্তর সেবার নীতিমালা হালনাগাদ করার পাশাপাশি সরকারি কেনাকাটায় সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্য কেনা নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ সমস্যা নিয়ে সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সমস্যা ও অভিযোগ সমাধানে হটলাইন বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘মেম্বারস ভয়েস’ প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন গোল্ডেন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মাইক্রোসান সিস্টেমসের স্বত্বাধিকারী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, পিসি গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী আহসানুল ইসলাম, সাউথবাংলা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, স্টারটেক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারম্যান রাশেদ আলী ভূঁঞা এবং টেক হিলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

‘সমমনা’ প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন কম্পিউটার সিটি টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, কম্পিউটার পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ আলী শামীম, ওরিয়েন্ট কম্পিউটার্সের স্বত্বাধিকারী জাবেদুর রহমান, পেরিননিয়েল ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী মোজহের ইমাম চৌধুরী, স্পিড টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন এবং ওয়েলকিন কম্পিউটার্সের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম।

তিন সদস্যের নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিপ্রোকো কম্পিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফকাত হায়দার। অন্য দুজন সদস্য হলেন দা কম্পিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আতিক-ই-রব্বানী এবং ওরা-টেক কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ কবীর আহমেদ।