বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমির শুভেচ্ছাদূত হলেন মোঃ রফিক

প্রকাশিত: 4:52 PM, June 7, 2020

মোঃ রফিক। নামটির সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন রফিক যে বাংলাদেশ ক্রিকেট কে কত কিছু দিয়েছেন সেটা একজন ক্রিকেট ভক্তই ভালো বলতে পারবেন।

দেশের ক্রিকেটকে দীর্ঘদিন সার্ভিস দেয়ার পর স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটের কাজই করবেন। কিউরেটর হিসেবে হলেও দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। কিন্তু এক যুগ চেস্টা করেও স্পিন কোচ হতে পারেননি।  বোর্ডের অনুমোদিত কোচ হিসেবে চাকরি পাননি। এ নিয়ে আক্ষেপও আছে তার। এখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন রফিক। বাংলাদেশে তো প্রশ্নই আসে না, ক্রিকেট বিশ্বেও বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে রফিকের মানের  বোলার আছেন হাতে গোনা। তিনিই হতে পারেন দেশের সর্বোত্তম স্পিন কোচ। কিন্তু বিসিবি তাকে কোচ হিসেবে নেইনি। তবে ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সঙ্গে ইউটিউব লাইভে মোহাম্মদ রফিক জানিয়েছেন, তিনি খুব শীঘ্রই হয়তো একটি একাডেমির সাথে সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছেন। সে ক্রিকেট একাডেমিটি করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট হাউজ ‘বসুন্ধরা গ্রুপ’। সেখানে মোহাম্মদ রফিককে শুভেচ্ছাদূত হওয়ার প্রস্তাবও নাকি দেয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘সত্যি কথা কি! ১২ বছর হয়ে গেল, বিসিবিতে কিছু হলো না। জানি না আল্লাহ কত দিন হায়াত দিবেন। এখন আমি এ বছর  শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের কোচ হিসেবে কাজ করছি, নিজে ‘ফ্রাইডে ক্রিকেট’ খেলছি।’ নতুন প্রস্তার নিয়ে রফিক বলেন,‘বসুন্ধরা একটি বড়সড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বসুন্ধরার মালিক শাহ আলম সাহেবের ছেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন, তারা নিজ উদ্যোগে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করবেন। একটি ক্রিকেট একাডেমিও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ইশতিয়াকের (বসুন্ধরার স্বত্বাধীকারি শাহ আলমের বড় ভাই সাবেক হকি তারকা ও হকি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেকের ছেলে ও ক্রিকেট সংগঠক) সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আমরা এখানে একাডেমি করব, তাতে আপনি শুভেচ্ছাদূত হিসেবে থাকবেন। আজীবন কাজও করে যাবেন নিজের মত করে। আমি তাদের প্রস্তাব পেয়ে খুব খুশি। সানন্দে রাজি হয়েছি। কারণ অনেক দিন তো হলো, ১২ বছর পার করে ফেললাম। বোর্ডে কোচের চাকরির আশা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আগামীতে বসুন্ধরার ক্রিকেট একাডেমি কেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনাই করছি। বসুন্ধরার ঐ ক্রিকেট একাডেমি নিয়েই স্বপ্নের জাল বুনছি।’ দেশের সাবেক কোচদের প্রতি আরও আন্তরিক এবং যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রফিক।রফিক বলেন,‘কোচরা জীবিত অবস্থায় তেমন মূল্যায়ন পান না। তাদের কদর থাকে না। পৃথিবী থেকে পরপারে পাড়ি দেয়ার পর তাদের নিয়ে কথা হয়। তা না করে জীবদ্দশায়  বোর্ড তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে। তাদের মাসিক বেতনের মত দিতে পারে। শ্রদ্ধেয় ওসমান ভাই আছেন, তিনি আমার গুরু। প্রয়াত আলতাফ ভাইও আমার গুরু ছিলেন।

রফিক ফিরে আসুক তার আপন মহিমায়। একজন ক্রিকেটার রফিককে যে ক্রিকেটের সার্থে সংগঠক হিসাবেও বড়ই দরকার।